১৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ - ০২ জুন, ২০২৬ - 02 June, 2026

সুন্দরগঞ্জে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধের অভিযোগে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন

24
2026-06-01 17:15:49

news-picture

হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা):

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের মধ্য বেলকা এলাকায় যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে সুন্দরগঞ্জ-মওলানা ভাসানী সেতু সড়কের মধ্য বেলকার ফারুকের মোড় এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মধ্য বেলকা গ্রামের বাসিন্দা মিজবাহুর রহমান। তিনি বলেন, প্রতিবেশী ছায়েদ আলী, মন্জু মিয়া, শাহ আলম, সাহাবুদ্দিনসহ তাদের স্বজন ও সহযোগীরা যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় ১০টি পরিবার নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছে না। ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়াও একই কারণে এলাকার আরও প্রায় ৮টি পরিবার চলাচল সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মিজবাহুর রহমান বলেন, তিনি তার জ্ঞাতিভাই মিজানুর রহমান ও মাজহারুল ইসলাম দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফিরে এসে দেখেন, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি নিজেদের বলে দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছেন।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরে গত ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার বাবা আব্দুল মতিন এবং ভাতিজা সৌরভের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালায়।

সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, হামলাকারীরা বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে ১৬টি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, তিনটি মোটরসাইকেল, প্রায় ২৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া জমির দলিল, কীটনাশক ব্যবসার লাইসেন্স, ব্রিডিং লাইসেন্স, ব্যাংক সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সনদপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে তাদের প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন।

বক্তব্যে আরও, ঘটনার পর উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবারগুলো বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এই সুযোগে বাড়িতে থাকা অবশিষ্ট মালামালও লুট করে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সর্বশেষ অভিযুক্তরা তাদের বাড়িতে প্রবেশের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তা টিন দিয়ে ঘিরে বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তারা নিজেদের বাড়িতে প্রবেশ করতে পারছেন না এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। শিশু, নারী ও বয়স্ক সদস্যরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি। তাই তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে যাতায়াতের রাস্তা উন্মুক্ত করা, হামলা ও লুটপাটের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

তবে সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত অভিযুক্ত ছায়েদ আলী, মনজু মিয়া, শাহ আলম ও সাহাবুদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়