শিক্ষকরা কাটান অলস সময় নবাবগঞ্জে ৫ প্রতিষ্ঠানের সবাই অকৃতকার্য
বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাশ না করিয়ে অলস সময় কাটানোর প্রেক্ষিতে এবারের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
জানা গেছে, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে নবাবগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯ জন, রোস্তমপুর নূরুলহুদা দ্বিমূখী দাখিল মাদ্রাসার ২৩ জন, মতিহারা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার ১জন, বুজরুক হরিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ১৪ জন ও বড় মহেশপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ১জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। সাম্প্রতিক ফলাফলে ঐ ৫ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাশ করেনি। অভিভাবকদের অভিযোগ, এমপিও ভুক্ত গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩ জন, রোস্তমপুর নূরুলহুদা দ্বিমূখী দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ জন ও বুজরুক হরিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৬ জন শিক্ষক নিয়মিত সরকারি বেতন ভাতা পেয়ে আসছেন। তারা প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার বেতর তুললেও পাঠদানে অমনযোগি হওয়ার কারণে ঐসব প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাশ করতে পারছেনা। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ বিভিন্ন খোঁড়া যুক্তি তুলে ধরে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন।
রোস্তমপুর নূরুলহুদা দ্বিমূখী দাখিল মাদ্রাসার সুপার জাবেদ আলী বলেন, শিক্ষার্থীরা দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় তারা ক্লাসে অনুপিস্থত থেকে মাঠে কৃষি কাজকর্ম করে বেড়ায়। তাই এ ফল বিপর্যয়।
বুজরুক হরিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসায় লেখপড়া ভালই হয়েছে। ফল বিপর্যয়ের কারণ তার জানা নেই।
গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলীকে বহুবার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।
নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা মোট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৫৩টি এর মধ্যে একটি গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে শত ভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে । দাখিল মাদ্রাসা মোট ৩৮টি এর মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ অকৃতকার্যের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।