গঙ্গাচড়ায় আগুনে দুই কৃষকের পোয়াল-খড়ের পুজ ভস্মীভূত, এলাকায় আতঙ্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় গভীর রাতে আগুনে দুই কৃষকের পোয়াল-খড়ের পুজ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের কুড়িবিশ্বা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন—কুড়িবিশ্বা এলাকার জগেন চন্দ্র রায়ের ছেলে দ্বিজেন চন্দ্র রায় এবং মহেষ চন্দ্র বর্মনের ছেলে কৃষ্ণ চন্দ্র রায়।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে কে বা কারা পোয়াল-খড়ের পুজে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই জনের পৃথক পোয়াল-খড়ের পুজ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনের বিষয়টি টের পাওয়ায় অল্পের জন্য দ্বিজেন চন্দ্র রায়ের বসতবাড়ি আগুনের হাত থেকে রক্ষা পায়।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাপী রানী বলেন, “রাতের বেলা হঠাৎ আগুন দেখতে পাই। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সময়মতো জানতে না পারলে বাড়িঘরেও আগুন লেগে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা চারু বালা বলেন, “এমন ঘটনা আগে দেখিনি। গভীর রাতে খড়ের পুজে আগুন লাগায় সবাই ভয় পেয়েছি। এখন রাত হলেই এলাকায় আতঙ্ক কাজ করছে। বিষয়টি তদন্ত করে আগুনের কারণ বের করার দাবি জানাই।”
ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিজেন চন্দ্র রায় বলেন, “রাতে হঠাৎ আগুনের বিষয়টি জানতে পারি। আগুনে আমার পোয়াল-খড়ের পুজ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুনের তাপ ও লেলিহান শিখা বাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছিল। অল্পের জন্য বাড়িটি রক্ষা পেয়েছে। কে বা কারা আগুন দিয়েছে, তা আমরা জানি না। সুষ্ঠু তদন্ত করে বিষয়টি বের করার দাবি জানাচ্ছি।”
অপর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষ্ণ চন্দ্র রায় বলেন, “সারা বছরের জন্য রাখা পোয়াল-খড়ের পুজ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আগুন কীভাবে লাগল বুঝতে পারছি না। আমরা চাই, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করুক।”
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতের বেলায় নিজেদের বাড়িঘর ও গোয়ালঘরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, “আগুন লাগার বিষয়টি আমরা জেনেছি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আগুন কীভাবে লেগেছে এবং এর পেছনে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের পর জানা যাবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”