আহত সাংবাদিক দুলালকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সংবাদ প্রকাশের জেরে হামলায় আহত সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলালকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সোমবার সকালে গঙ্গাচড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলালের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. জেসমিন আক্তার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হামিদুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহফুজুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুবেল হুসেইন ও সমবায় কর্মকর্তা আবতাবুজ্জামান চয়নসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
এ সময় তাঁরা আহত সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজ নেন। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। এ সময় হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু মো. আলেমুল বাশারসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
চিকিৎসকরা জানান, হামলায় সাংবাদিক দুলালের মাথা, বাম পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে ছেঁড়া-ফাটা ও কালশিরার দাগও রয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উল্লেখ্য, অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার সংবাদ প্রকাশের জেরে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলালের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের উমর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিক আব্দুল বারী দুলাল দৈনিক লাখোকণ্ঠ ও দৈনিক প্রতিদিনের বার্তার গঙ্গাচড়া প্রতিনিধি এবং গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাঁকে পথরোধ করে গলা চেপে ধরেন এবং পেছন থেকে হাত আটকে রাখেন। পরে কাঠ কাটার ধারালো কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। এতে মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। এরপরও তাঁকে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও একটি Oppo A57 মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গজঘণ্টা ইউনিয়নের উমর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত গোলজার হোসেনের ছেলে কামরুজ্জামান, তাঁর ছোট ভাই আমানুল্লাহ আমানসহ ৭-৮ জন এ হামলায় জড়িত।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই এলাকায় কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান চালান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হামিদুল ইসলাম। অভিযানে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। ওই অভিযান নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই সাংবাদিক দুলালকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে।
হামলার পর স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।
এ ঘটনায় রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন, গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাব, গঙ্গাচড়া প্রেসক্লাব, রংপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।