৩ বৈশাখ, ১৪৩১ - ১৬ এপ্রিল, ২০২৪ - 16 April, 2024
amader protidin

নাগেশ্বরীতে কয়েকদফা বন্যায় পানিতে ডুবলো কৃষকের স্বপ্ন

আমাদের প্রতিদিন
7 months ago
224


খাদ্য ঘাটতির আসঙ্কা

ডা. শেখ মো. নুর ইসলাম, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম):   

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে কয়েকদফা বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কৃষিতে। শেষ চতুর্থ দফা বন্যায় ডুবেছে কৃষকের স্বপ্ন। গেলো কয়েকদিন আগেও উজানের পাহাড়ি ঢল আর ভারি বৃষ্টিপাতে তলিয়ে গেছে নি¤œাঞ্চল ও চারাঞ্চলের হাজার হাজার বিঘার আমন ক্ষেত। নষ্ট হয়েছে বিভিন্ন সবজিক্ষেতও। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য  অনুযায়ী এ বছর উপজেলায় ২৪ হাজার ৩শ ৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্জিত হয়েছে প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার হেক্টর। আর চলতি বন্যায় পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিলো ১ হাজার ৫৮ হেক্টর জমির আমন ফসল। এরমধ্যে ৩৫ হেক্টর জমির আমন ও ১৭ হেক্টর জমির বিভিন্ন শাক-সবজির ক্ষেত বন্যার পানিতে বিনষ্ট হয়েছে। কৃষকরা জানান তাদের জমির ফসল নষ্ট হওয়ায় নতুন করে চাষাবাদ শুরু করতে চাইলেও তার আর হবে না। আমনের চারা সংকটে নতুন করে আমন চাষের স্বপ্ন তাদের স্বপ্নই থেকে যাবে। ফলে ধান না পেলে পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে এমন শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। এছাড়াও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতেও হিমশিম খেতে হবে তাদের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে নেওয়য়াশী ইউনিয়নের কানীপাড়া, পৌরসভার মালবাঙ্গা, গোর্দ্ধারেরপাড়, সেনপাড়া, বোয়ালেরদারা, রায়গঞ্জ ইউনিয়নের দামালগ্রাম, চর দামালগ্রাম, রাঙ্গালিরবস, ফান্দেরচর, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মুড়িয়া, তেলিয়ানিরপাড়, চর লুছনি, ওয়াপদা, ধনীটারী, পাটেশ্বরী, মালিয়ানিীটারী, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের কপিলের চর, চর বেরুবাড়ী, ভইসতলি, সন্তোষপুর ইউনিয়নের আমতলা, ছিলা খানা, নাওডাঙ্গা, ধরকা বিল, রামখানা ইউনিয়নের দক্ষিণ রামখানা, বানারপারসহ উপজেলার প্রায় সকল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার নি¤œাঞ্চলের আমন ক্ষেত বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে অনেক ফসলহানী হয়েছে। কৃষকরা বলছেন ধার দেনা করে লাগানো এসব ফসল নষ্টে সংসারে দেখা দেবে খাদ্য ঘাটতি। কষ্টের ফসল নষ্টের ফলে গোলায় ধান তুলতে না পেরে না খেয়ে থাকতে হবে তাদেরকে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় সেগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। পৌরসভার মালভাঙ্গা এলাকার কৃষক আব্দুর রহিম নয়ন জানান তিনি এ মৌসুমে ৬ বিঘা জমিতে আমন চাষ শুরু করেছেন। চারা রোপনের পর পানি এসে সেগুলোর অনেক ক্ষতি করে। এরপর আবারও চারা সংগ্রহ করে সেগুলো নতুন করে লাগালেও আবারও দুইবার পানি এসে ডুবে সব নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতি বিঘা জমিতে আমন লাগােেত তার সবমিলে খরচ হয়েছে ৫-৬ হাজার টাকা। ফসল নষ্ট হয়ে দিশাহারা তিনি। একই কথা জানান বাগডাঙ্গা গুন্ডিরচর এলাকার কৃষক ময়েন উল্লাহ। তার এক বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে গিরাই বিল থেকে। সেখারকার শত শত বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়েছে বলেও জানান তিনি। বেরুবাড়ী ইউনিয়নের চর বেরুবাড়ী এলাকার কৃষক ফজলু মিয়া জানান তিনি ২ বিঘা জমি বরগা নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছেন। প্রথমবার বন্যায় ডুবে তলিয়ে গেছে তারা ক্ষেত। এতে অনেক ক্ষতি হলেও ধানগাছের গোড়া দিয়ে নতুন করে গাছ গজিয়ে উঠছিলো। এমন সময় আবারও পানি এসে সেগুলো তলিয়ে পুরোপুরি আবাদ নষ্ট হয়েছে। ওই দোলায় অধিকাংশ জমির আমনক্ষেতের অবস্থা একই বলেও জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, আমন চাষ এখনও চলমান রয়েছে। কেউ কেউ নতুন করে আমন চাষ শুরু করেছেন। আমরাও পরামর্শসহ বিভিন্নবাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সবসময় খোঁজ খবর রাখছেন।

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়