১০ ফাল্গুন, ১৪৩০ - ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ - 23 February, 2024
amader protidin

গঙ্গাচড়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সাড়ে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেন দুই কর্মকর্তা

আমাদের প্রতিদিন
2 months ago
307


নির্মল রায় ,গঙ্গাচড়া (রংপুর):

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের ঝাড়ুদার মিনু মাই’র বকেয়া বেতনের সাড়ে ৩ লক্ষাধিক টাকা তার কাছে সুকৌশলে স্বাক্ষর নিয়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান ও সংস্থাপন - প্রশাসন শাখার দেলওয়ার হোসেন কর্তৃক গোপনে উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি উপজেলা অফিস পাড়ায় জানাজানি হলে অন্যান্য অফিসের অফিস সহায়করাও শঙ্কিত হয়ে নিজ কর্মকর্তাদের প্রতি আস্থাহীনতায় ভুগছেন।

এঘটনায় অভিযুক্ত উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান ও যুব উন্নয়ন অফিসের সংস্থাপন ও প্রশাসন শাখার অফিস সহকারী দেলওয়ার হোসেনের কাছ থেকে উত্তোলনকৃত টাকা ফেরৎ ও তাদের শাস্তির দাবিতে রংপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল ফারুকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মিনু মাই ।

উপপরিচালক আব্দুল ফারুক লিখিত অভিযোগ পেলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো অভিযুক্তদের বাঁচাতে চেষ্ঠা করছেন বলে অফিস সূত্র জানা গেছে।

এবিষয়ে ঝাড়ুদার মিনু মাইয়ের সাথে কথা হলে, তিনি জানান, ২০০৩ সালের ১৮ জুন তিনি হবিগঞ্জের যুব উন্নয়ন অফিসে ঝাড়ুদার পদে (উন্নয়ন খাতে) যোগদান করেন। ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর তার চাকুরী রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হয়। এর মাত্র এক মাস পর (২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর) তিনি বদলী হয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা অফিসে আসেন। উন্নয়ন খাত থেকে রাজস্ব খাতে চাকুরী স্থানান্তরিত হওয়ায় তার অনেক টাকা বকেয়া থাকে। ওই বকেয়া টাকা পেতে সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তার মাধ্যমে বিল প্রস্তুত করে তা উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে দাখিল করতে হয়। ওই বিল প্রস্তুতের জন্য মিনু মাই গত ১৩ নভেম্বর উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে যান।

সেখানে গিয়ে  তিনি জানতে পান তার ওই বিলের ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৪৯৩ টাকা গত ৪ অক্টোবর উপজেলা যুব উন্নয়ন সংস্থাপন ও প্রশাসন শাখার অফিস সহকারী  দেলওয়ার হোসেন তুলে নিয়ে গেছেন।

তখন তিনি নিজ অফিসে গিয়ে দেলওয়ার হোসেনের কাছে তার পাওনা বেতনের টাকা চাইলে তা প্রদান করা হয়েছে মর্মে তিনি জানান। ফলে তিনি তাৎক্ষণিক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমানকে অবহিত করলে তিনিও একই কথা বলেন। এতে মিনু মাই নিজ অফিসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কান্নার কারণ জানতে গিয়ে অফিসপাড়ার অনেকেই ঘটনাটি জানতে পান। যা মুহুর্তের মধ্যে পুরো অফিসপাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় মিনুকে বদলীসহ বিভিন্ন ভীতিকর হুমকি প্রদান করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান ও যুব উন্নয়ন সংস্থাপন ও প্রশাসন শাখার অফিস সহকারী  দেলওয়ার হোসেন।

নিরুপায় হয়ে তিনি পাওনা টাকা পেতে পরের দিন গত ১৪ নভেম্বর রংপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল ফারুক বরাবর লিখিত আবেদন জানান। আবেদনের প্রেক্ষিতে উপপরিচালকের নির্দেশে গত ১৬ নভেম্বর তাঁর দপ্তরে উপস্থি হন অভিযোগকারী মিনু মাই এবং অভিযুক্ত মাহমুদুর রহমান ও দেলওয়ার হোসেন। এ সময় আগামী ২০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ টাকা মিনু মাইকে ফেরৎ দেওয়ার অঙ্গীকার করেন মাহমুদুর রহমান ও দেলওয়ার হোসেন। প্রতিশ্রুতি পেলেও টাকা হাতে না পাওয়ায় শঙ্কিত রয়েছেন মিনু ।

এসময় মিনু মাই আরো বলেন, আমার এই বকেয়া বেতন পাইয়ে দেয়ার কথা বলে দেলওয়ার হোসেন স্যার আমার কাছে ৭০ হাজার টাকা চায়। এমনকি তাকে ৩৩ হাজার টাকা দিয়েও দিয়েছি। আর বাকি টাকা আমার বেতন হয়ে গেলে বেতনের টাকা তুলে দিবো।

মিনু মাই’র বকেয়া বেতনের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, বিষয়টি অফিস সহকারী দেলওয়ার হোসেন জানেন। অপর প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুর রহমান পুনরায় বলেন, ডিডি স্যার বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছেন। এক পর্যায়ে তিনি ঘটনাটি ভুল হয়েছে মর্মে স্বীকার করে জীবনে আর ভুল হবে না বলে সাংবাদিকদের  কাছে ক্ষমার দৃষ্টি কামনা করেন।

একই বিষয়ে সংস্থাপন ও প্রশাসন শাখার অফিস সহকারী  দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘স্যারের নির্দেশে আমি নিয়ম অনুযায়ী টাকা উত্তোলন করেছি। মিনুকে ওই টাকা প্রদানের প্রাপ্তির স্বাক্ষরও আমার কাছে রয়েছে।’ মিনু মাই’র হাতে আপনি টাকা দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওটা স্যার ভালো জানেন।”

বিষয়টি রংপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল ফারুকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিনু মাই আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করার পর আমি তাদের আমার অফিসে ডেকে ছিলাম প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে তিন দিন পর শিকার করে টাকা ফেরৎ দিতে চায়। আসলে বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক।

এসময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয় তাদের বিরুদ্ধে কি কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে,? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা যদি অফিসিয়াল সিষ্টেমে যাই তাহলে মিনু মাইয়ের টাকা টা পাইতে কিন্তু বহুত সময় লাগবে। তাই তাদের কিছু না বলে টাকা যাতে মিনু মাই পায় সে ব্যবস্থা করতেছি। যত তারাতাড়ি সম্ভব মিনু মাইয়ের টাকাটা তুলে দেয়া যায়।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়