১০ ফাল্গুন, ১৪৩০ - ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ - 23 February, 2024
amader protidin

পীরগাছায় ভোজন রসিকদের পকেট কাটছে চাচার হোটেল!

আমাদের প্রতিদিন
2 months ago
335


পীরগাছা(রংপুর)প্রতিনিধি:

যদি কেউ দেড় কেজি চালের ভাত খেতে পারে তাহলে খাওয়া শেষেই দেওয়া হবে এক গ্লাস দুধ, এক গ্লাস দই ও কোমলপানীয়। একই সঙ্গে দেওয়া হবে ৮৫০ টাকা মূল্যের প্যান্ট পিচ, যাতায়াতের ভাড়া ও নাশতা বাবদ ১০০ টাকা বকশিশ! এমন ঘোষণার চমক দিয়েই প্রচারণায় এসেছেন রংপুরের পীরগাছার বকসীর দিঘির ‘চাচার হোটেলে’র মালিক মকবুল হোসেন।

শর্তও আছে, চুক্তিতে খাবার খেতে সময় দেওয়া হবে ১ ঘণ্টা দশ মিনিট। এর মধ্যে সম্পূর্ণ খাবার খেতে হবে। তবে গত ছয় মাসেও দেড় কেজি চালের ভাত খেয়ে কেউ এমন সব পুরস্কার পেয়েছেন বলে বাস্তবে নজির মেলেনি। কিন্তু ইতিমধ্যে তার এমন চমকের খবর বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন ও টেলিভিশন চ্যানেলসহ সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারিত হয়েছে। ফলে প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়ে অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে দুপুরে খাওয়ার জন্য চাচার হোটেলে ভিড় করছেন। এরই সুযোগে ভোক্তার পকেট কাটছেন মকবুল হোসেন। হঠাৎ করেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। খাওয়া শেষে তাই ভোক্তারা তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়াসহ অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে চলে যাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর-সুন্দরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পীরগাছা উপজেলার বকসীর দিঘি বাজারে ‘চাচার হোটেল’র অবস্থান। এখানে বাটিভর্তি ভাত-ডাল আর সঙ্গে গরুর মাংস, অর্ধেক ডিম, সবজি, মাছ, শুঁটকি, বাদাম, আলুভর্তা, শাক ভাজা ও সালাদ প্যাকেজ আকারে মিলে। এতে নুতন সংযোজন হয়েছে হাঁসের মাংস। কিছুদিন আগেও প্যাকেজের মূল্য ছিল ১৪০ টাকা। তাকে নিয়ে প্রচারণা শুরু হলে বাড়তে থাকে ভোক্তার সমাগম। এ সুযোগে বাড়াতে থাকে দামও! দুই সপ্তাহ আগেও ১৮০ টাকা প্যাকেজ মূল্যে এসব খাবার মিলত। এখন দাম নির্ধারণ করেছে ২০০ টাকা! এতে ভোজন রসিক মানুষদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে 'হামার পীরগাছা' নামে ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করেন বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, পীরগাছার সেই চাচার হোটেলে ১৮০ টাকা বিজ্ঞাপন দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন ২০০ টাকা করে। গত কয়েকদিন থেকে পীরগাছার বকশির দিঘি বাজারের ভাইরাল হওয়া সেই চাচার হোটেলে রমরমা ব্যবসা চলছে। এর আগে শুনেছিলাম ১৭০ টাকা। তার সপ্তাহ খানিক পরেই অনেক নিউজ হলো যে ১৮০ টাকা। ১৮০ টাকা ভেবে আমি, ফুয়াদ শাহরীয়া ও মোস্তাফিজ রহমান ভাইসহ গেলাম খেতে সেই বিখ্যাত চাচার হোটেলে। খাবারের স্বাদ ততটাও মানসম্মত পাইলাম না। আবার এদিকে বিল দেয়ার সময় নিচ্ছে ২০০ টাকা করে। অনেক দূর দূরান্ত থেকে আসা অনেকে খারাপ মন্তব্য করছে। একজন তো এক পর্যায়ে বলেই ফেলল যে কাজটা মোটেও ঠিক করলেন না আপনি, ১৮০ টাকার নিউজ দেখে অনেক দূর থেকে আসলাম আমরা আর আপনি নিচ্ছেন ২০০ টাকা করে। আপনি তো পীরগাছার সম্মানটা নষ্ট করছেন। বেলাল হোসনের এই পোস্টে দুই শতাধিক ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন।

রফিকুল ইসলাম রনি নামে একজন বলেন, আমি যখন ১ম খেয়েছি তখন ১৪০ টাকা, তারপরে ২য় বার যখন গেলাম তখন আবার খেলাম ১৬০, এখন আবার ২০০ টাকা। বছর না ঘুরতে ৬০ টাকা বেশি আইটেম সেই আগের টাই।  এখন তো বাজারে জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলক কম।

জাহিদ হোসেন নামে একজন বলেন, আমার বাড়ির পাশে হোটেলটা। একটা বাস্তব একটা ঘটনা বলি, এক ছেলেরে আমি চিনি সে ট্রলি চালায়। বিশাল আকৃতির দেহের অধিকারী সে। চাচা তাকে পেট চুক্তিতে খাওয়ায় না। কারণ ওভাবে খাওয়ালে নাকি চাচার লস হয়। তাহলে ভাওতাবাজির সুযোগগুলো কে করে দিয়েছে? গুটি কয়েক সাংবাদিক আর ইউটিউবাররা মিলে এই কাজটা করলো।

হালিম মাহমুদ বলেন, এইটাকে বলা হয় চিটিং ব্যবসা। সবাই কি এক রকম খাইতে পারে নাকি? কেউ কম খাবে, কেউ বেশি খাবে। যে যেমন খাবে তার বিল তেমন হবে। আর এখানে যেসব আইটেম দেখলাম, সর্বোচ্চ খরচ ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা লাগতে পারে।

ভোক্তা ও ইউটিউবারদের দোষ দিয়ে শরিফুল ইসলাম বলেন, দোষটা মোটেও চাচার নয়, দোষটা আপনার মতো যারা খেতে গেছেন তাদের এবং ইউটিউবাররা? কই আমরা তো যাইনি?গ্রামের মানুষ একদম সাদা মনে একটা হোটেল খুলে বসেছেন আর কিছু ফটকাবাজ ইউটিউবার তাকে নিয়ে এতো পরিমাণে লাফালাফি করতেছে মনে হয় এমন খাবার তার পরিবারের কেউ কোনো দিন খায়নি, রান্না জানেন না! আমরা ভাই একটু বেশি কথা বলতে পছন্দ করি তাই আমাদের সাথে এমন হওয়াটাই উচিৎ, আমরা ৫  টাকার চা খেতে যাই ৫০টাকা খরচ করে। রংপুর শহরেই অনেক কম দামে বেশ কিছু হোটেল আছে সেগুলো ভিজিট করেন তাহলে চাচার কাছে যাওয়া লাগবে না।

লতিফা ইয়াসমিন বলেন, তেমন ভালো না। আগে ছিল ৯০ টাকা। তারপর ফেসবুকে প্রচার হওয়ার পর এখন এই অবস্থা। এখন শুধুই চাপাবাজি ছাড়া কিছুই না। তবে চাচার হোটেলের দাম বাড়ানোর পক্ষেও অনেকে মন্তব্য করেন। রাসেদুজ্জামান রাসেল নামে একজন বলেন, ২০০ টাকায় আবার মান সম্মত খাবার চান। ২০০ টাকার মধ্যে গরুর মাংস, ডিম, ভর্তা, সবজি, ডালসহ আরো অনেক কিছু দেয়।

মনিরুজ্জামান নামে একজন বলেন, দেশে সবকিছুর দাম রাতারাতি যেভাবে আকাশচুম্বী হয়ে যাচ্ছে, সেগুলা যদি আমরা নিরবে সহ্য করতে পারি, তাহলে এটাও পারব। ৩০ টাকা কি আর এমন। এটার জন্য কিসের আবার পোস্ট করা লাগে। বাদ দাও না ভাই লোকটার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন থেকে আসা আব্দুস ছালাম বলেন, হাঁসের মাংস আমাদের খুব প্রিয়। এজন্য এখানে খেতে এসেছি। খাবার ভাল তবে তাম তুলনামূলক বেশী।

পত্রিকায় খবর দেখে কুড়িগ্রামের রাজারহাট থেকে আসা আতাউর রহমান বলেন, চাচার হোটেলের খবর দেখলাম পত্রিকায়। তাই কয়েক বন্ধু খেতে আসলাম। তবে খাবার মান প্রচারণার তুলনায় ভাল না। দামও বেশী নিলো।

চাচার হোটেলে নিয়মিত খেতে আসা শাহ আলম কিরণ বলেন, আগে থেকেই এই হোটেলে খাই। চাচাকে নিয়ে নিউজ হওয়ায় দাম বাড়ানো শুরু করেছে। অধিক প্রচারণায় গ্রাহক বেশী হওয়ায় চাচা এ সুযোগ নিয়েছে।

রাজু মিয়া নামে এক ভোক্তা বলেন, ভোক্তাদের ঠাকাচ্ছে চাচা। ভাইরাল হওয়ার পর দাম বাড়িয়ে চলছে। অথচ এখন শীতকালীন শাকসবজির দাম কম। গোস্তের বাজারও আগের তুলনায় কম। তাহলে দাম বাড়ানোর কারণ কি? তার তো এখন কাস্টমার অনেক।

চাচার হোটেল হিসাবে পরিচিতি পাওয়া হোটেলটির মালিক মকবুল হোসেন বলেন, অনেক বছর থেকে হোটেলটি পরিচালিত হলেও খুব অল্প সময়ে বেশ পরিচিতি পেয়েছি। এখন কাস্টমারও বেশ। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমিও দাম বাড়িয়েছি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়