৮ ফাল্গুন, ১৪৩০ - ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ - 21 February, 2024
amader protidin

ফ্যাক্টর স্বতন্ত্র প্রার্থী বাবলু

আমাদের প্রতিদিন
1 month ago
207


রংপুর-১ আসন

নির্মল রায়,গঙ্গাচড়া (রংপুর):

রংপুর-১ আসনে এবার শক্ত প্রতিদ্বদ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান বাবলু। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের আগে থেকেই তিনি নির্বাচনি মাঠ গুছিয়ে নিয়েছেন। গণসংযোগ, বিভিন্ন ধর্মীয়-সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গিয়েছেন ভোটারদের কাছে। বিশেষ করে যুবকদের আকৃষ্ট করেছেন বাবলু। এর ফলে গঙ্গাচড়ার যুবদের সংগঠন যুবমঞ্চ বাবলুকে সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়া আসাদুজ্জামান বাবলু জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। যার কারণে দলীয়ভাবেও রংপুর-১ আসনে তার পক্ষে কাজ করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। বিগত সময়ে তিনি বিপুল ভোটে গঙ্গাচড়া ইউনিয়ন এবং গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাই বাবলুর পেছনে রয়েছে বড় জনসমর্থন।

রংপুর জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর-১ আসনটি গঙ্গাচড়া উপজেলা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ৮নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ৪৬ জন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জেলার সর্বোচ্চ ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ।

রংপুর-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে রয়েছেন হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (জাতীয় পার্টি), বর্তমান সংসদ সদস্য  মসিউর রহমান রাঙ্গা (স্বতন্ত্র), আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান বাবলু (স্বতন্ত্র), বখতিয়ার হোসেন (বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি), বদরুদ্দোজা চৌধুরী (তৃণমূল বিএনপি), সদ্য জাতীয় পার্টিতে যোগদান করা শাহিনুর আলম (স্বতন্ত্র), হাবিবুর রহমান (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি) ও শ্যামলী রায় (বাংলাদেশ কংগ্রেস)। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে রংপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুর রউফ নির্বাচিত হন। এরপর দু’বার বিএনপি ও টানা ৮ বার জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির ময়েন উদ্দিন সরকার নির্বাচিত হয়েছিলেন। গঙ্গাচড়াবাসীর ক্ষোভ, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা বিভিন্ন  জেলা-উপজেলা থেকে এসে রংপুর-১ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটের পর এলাকার কেউ খোঁজ-খবর রাখেননি। তাই তিস্তা নদী বিধৌত গঙ্গাচড়ার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হয়নি।  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ রংপুর-১ আসনের বাসিন্দা নন। তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

অপরদিকে স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে বাকী ৮ জন মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করেছেন। আসন্ন নির্বাচনে পরীক্ষিত জনপ্রতিনিধি, দলীয় সমর্থন  ও স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি দৌড়ে এগিয়ে আছেন আসাদুজ্জামান বাবলু।

আলমবিদিতর ইউনিয়নের চাঁন মিয়া, মহুবর মিয়া, সাজু মিয়া, শাকিল খান বলেন, বাবলু ভাই উপজেলার মানুষের বিপদে-আপদে পাশে ছিলেন। তাকে দিনে-রাতে, ঝড়-বৃষ্টিতে প্রয়োজনে গঙ্গাচড়ার প্রত্যন্ত চরে ছুটে যান। তাই গঙ্গাচড়ার মানুষ তাকে ভালবাসে এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করতে চায়।  গঙ্গাচড়া যুবমঞ্চের সমন্বয়ক আল আমিন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে গঙ্গাচড়ার মানুষ তাদের সন্তানকে সংসদে পাঠাতে পারেনি। নির্বাচন আসলে রাজনৈতিক দলগুলো জেলা-উপজেলা থেকে প্রার্থীকে নির্বাচন করে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য পাঠিয়ে দেয়। সেই প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে এলাকার খোঁজ রাখে না। গঙ্গাচড়ার মানুষ খরা, বন্যা, ভাঙন কবলিত। নদী ভাঙা মানুষের কাজের কোন ব্যবস্থা নেই। চরে এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি। এসব বিষয় নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কোন মাথা ব্যথা ছিল না। আসন্ন নির্বাচনে তরুণদের আইকন আসাদুজ্জামান বাবলুকে নির্বাচিত করতে আমরা যুব সমাজ কাজ করছি।

গঙ্গাচড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুল মতিন অভি বলেন, আসাদুজ্জামান বাবলু স্থানীয় প্রার্থী। সেই সাথে তিনি উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সততার সাথে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি গঙ্গাচড়ার মানুষের কাছে পরীক্ষিত ব্যক্তি। তাই আসন্ন নির্বাচনে তার প্রতি জনসমর্থন বেশি রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদেরও সমর্থন রয়েছে আসাদুজ্জামান বাবলুর প্রতি।

আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, রংপুর-১ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে  বঞ্চিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত। স্বাধীনতার পর গঙ্গাচড়া থেকে শুধুমাত্র একবার আমাদের সন্তানকে সংসদে পাঠাতে পেরেছিলাম। এরপর বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে প্রার্থীরা এসে গঙ্গাচড়া শাসন করে গেছে। তারা গঙ্গাচড়ার মানুষের কথা সংসদে বলেনি। বঙ্গবন্ধু কন্যা সারাদেশে যে উন্নয়ন করেছে, সেই হারে গঙ্গাচড়ার উন্নয়ন হয়নি। আমি বঙ্গবন্ধুর আর্দশের একজন সৈনিক। আমি ছাত্র রাজনীতি করেছি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। গঙ্গাচড়ার মানুষ আমাকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করেছিল। এবার তারা স্বপ্ন দেখছে আমাকে সংসদে পাঠাবার।

তিনি আরও বলেন, নেত্রী বলেছেন অংশগ্রহণমূলক, প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও উৎসব মুখর নির্বাচন করতে। আমার কতটুকু জনসমর্থন রয়েছে তা আমি নিজে বলবো না, আপনারা মাঠে গিয়ে যাচাই করে নিন। আমি নির্বাচিত হলে রংপুর-১ আসনকে উন্নয়নের মহাসড়কে উঠাবো ইনশা আল্লাহ।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়