৮ ফাল্গুন, ১৪৩০ - ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ - 21 February, 2024
amader protidin

ফুলবাড়ী সীমান্তের ওপারে দরবেশ কছিমমুদ্দিনের মাজার জিয়ারত

আমাদের প্রতিদিন
1 month ago
65


বিএসএফর সশস্ত্র অবস্থান

আব্দুল আজিজ মজনু,ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম):

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তের ওপারে দরবেশ কছিম উদ্দিনের মাজার জিয়ারত উপলক্ষ্যে বিএসএফ সীমান্তের ৫০ গজের ভেতর কাঁটাতারের বেষ্টনী তৈরি করে সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছে। এছাড়াও ভারতীয় অংশের মূল কাঁটাতারের ভেতর বিএসএফ, বিশেষ কমান্ড বাহিনী ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের শত শত সদস্যদের যানবাহনসহ ভারি অস্ত্র নিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে। অপরদিকে বিজিবি সতর্ক টহল অব্যাহত রয়েছে। 

জানা গেছে, উপজেলার কুটিচন্দ্রখানা গ্রামের নকরজান সীমান্তের ওপারে  ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলাধীন দিনহাটার ৯৪১ এর সাবপিলার ১ থেকে ৫নং পিলারের নিকট মনাইটারী সেউটি-২ গ্রামের জিরো লাইনে প্রায় ২শ বছর পূর্বে আরব থেকে আসা দরবেশ কছিম উদ্দিন এ এলাকায় ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য আস্তানা গাড়েন। সেখানেই তিনি মৃত্যু বরণ করলে তাকে সেখানে কবরস্থ করা হয়। তার মৃত্যুর পর সীমান্তের দু’পাড়ের ধর্মপ্রাণ লোকজন প্রতিবছর ভারতীয় বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী জানুয়ারী মাসের ১০ অথবা ১১ তারিখ  তার মৃত্যু দিবস উপলক্ষ্যে ওরস মোবারকের সঙ্গে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল উপলক্ষ্যে বিশাল সমাবেশ করে আসছিল। এটি ০৬ শতক জমির উপর নির্মিত। এবারে ১১ জানুয়ারী দরবেশ কছিম উদ্দিনের ৭৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী। সীমান্তের জিরো লাইনে দরবেশের মাজার থাকায় এখানে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে বসবাসকারীরা তাদের যৌথ আয়োজনে ওরসটি করে থাকে। মূলত ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের মধ্য দিয়ে দু’দেশের আত্মীয়স্বজনের মহামিলনে পরিণত হয় অনুষ্ঠানটি। কিন্তু সীমান্তের ৫০ গজের ভেতর দরবেশ কছিম উদ্দিনের মাজার থাকায় এবং এটি ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে হওয়ায় অনুমতি না থাকার কারণে বিএসএফ ওই ওরস মোবারক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। শুধুমাত্র ভারতীয়রা কাঁটাতারের বেষ্ঠনীর ভেতর মাজার জিয়ারত করেন। অপরদিকে বাংলাদেশী নকরজান গ্রামের অধিবাসীরা ওই মাজারে দীর্ঘদিন পরিচর্যার সঙে যুক্ত থাকলেও আইনি বাধা নিষেধ থাকায় তারা সেখানে জিয়ারত করতে পারেন না। অপরদিকে এই ওরস মোবারককে কেন্দ্র করে দু’দেশের দুর-দুরান্তের অনেক আত্বীয়-স্বজন তারা দেখা সাক্ষাত করার জন্য আসলেও সাক্ষাত না পাওয়ায় চোখের পানি ফেলে চলে যান। ২০১০ সালে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহীনির সম্মতি থাকায় সেসময় হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটেছিল সেখানে। ভারতীয় আলম, আনোয়ার, হজরত, আব্দুর রশিদ ও আব্দুল জলিল এই মাজারের কর্তা ব্যাক্তি হলেও বিএসএফ এর নিয়ন্ত্রনেই থাদেরকে সব কিছুই করতে হয়।

বাংলাদেশী নকরজান সীমান্তের গ্রামের রফিকুল ইসলাম রফিক ও আব্দুল খালেক জানান, আমাদের বাড়ীর পাশে দরবেশের মাজার হলেও আমরা আর সেখানে যেতে পাই না। কারণ মাজারটি ভারতে। এক সময় আমরা উভয় দেশের সীমান্তবাসীদের সহযোগিতায় জাকজমক ভাবে ওরস মোবারক পালন করেছিলাম। বসতো মিলন মেলা। দু’দেশের আতœীয় স্বজনদের সঙে হতো দেখা। এখন আর তা হয় না।

লালমনিরহাট থেকে আসা জুয়েল ও মেরাজ জানান, আমাদের চাচাতো ভাই ভারতের কোচবিহারের দিনহাটা শহর থেকে মজিদুল ও রাজু এসেছিল। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপে কথা হলেও দেখা হলো না। এখন ফিরে যাচ্ছি। অনেক আশা করে এসেছিলাম তাদের সঙে কুশল বিনিময় করবো সেটা হলো না। জানিনা আর দেখার সুযোগ পাবো কি না।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়