৮ ফাল্গুন, ১৪৩০ - ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ - 21 February, 2024
amader protidin

কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে অধ্যক্ষ, মামলা দায়ের

আমাদের প্রতিদিন
1 month ago
69


পীরগাছা হাজী ছফের উদ্দিন দ্বি-মুখী আলিম মাদ্রাসা

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের পীরগাছায় অবসর গ্রহনের ২২ দিন আগে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে থাকার অভিযোগ উঠছে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এঘটনায় গর্ভানিং বডির সভাপতিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জেলা রংপুরের পীরগাছা সহকারি জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করছেন মাদ্রাসার বিদে্যুৎসাহী সদস্য শফিকুল ইসলাম খাঁন। মামলায় পীরগাছা হাজী ছফের উদ্দিন দ্বি-মুখী আলিম মাদ্রাসার বিদায়ী অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান, গর্ভানিং বডির সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম জালাল, তথাকথিত উপাধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার, শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন খুশি, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ১৪ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। এদিকে বিদায়ী অধ্যক্ষ ৫ জনকে নিয়োগ প্রদানের কথা বললেও এক মাসেও কেউ নিয়োগপত্র নিয়ে মাদ্রাসায় যোগদান করেনি। অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান আত্মগোপনে থাকায় শুরু হয়েছে নিয়োগ নিয়ে জটিলতা ও দায়িত্ব নিয়ে চলছে লুকোচুরি খেলা।

মামলা সুত্রে জানা গেছে, পীরগাছা হাজী ছফের উদ্দিন দ্বি-মুখী আলিম মাদ্রাসার বিদায়ী অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানের চাকুরির মেয়াদ গত ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়। তিনি চাকুরি শেষের মাত্র ২২ দিন আগে উপাধ্যক্ষ, নৈশ্য প্রহরী, আয়া, ল্যাব সহকারি ও অফিস সহকারি পদে নিয়োগের জন্য গত ৮ ডিসেম্বর পাশর্^বর্তী কাউনিয়া উপজেলার বড়–য়ার হাট মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষা নেন। ৫টি পদে ৪৫ জন চাকুরী প্রত্যাশী অংশ নেন। যদিও নিয়োগ পরীক্ষা নিজস্ব মাদ্রাসায় হওয়ার বিধান রয়েছে। ওইদিন পরীক্ষার কোন রেজাল্ট না দিয়ে অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান আত্মগোপনে চলে যান। এর কয়েকদিন পর আব্দুস সাত্তার নামে এক ব্যক্তি নিজেকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে দাবি করে যোগদান করতে গেলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের বাঁধার মুখে তিনি যোগদান করতে পারেননি। তারপর থেকে তিনিও উধাও। এদিকে আয়া, নৈশ্য প্রহরী, ল্যাব সহকারি ও অফিস সহকারি পদে কারা নিয়োগ পেয়েছেন তা জানেন না কেউ। অধ্যবধি যোগদানও করেননি ওই পদগুলোর চাকুরী প্রত্যাশী ব্যক্তিরা। ফলে একেক পদের জন্য একাধিক ব্যক্তির নিকট প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আর এসবের মুল হোতা মাদ্রাসার শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন খুশি, অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান এবং গর্ভানিং বডির সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম জালাল বলে অভিয়োগে উঠে আসে।

ল্যাব সহকারি পদে চাকুরি প্রত্যাশী মাসুদ রানা বলেন, এক মাস পেরিয়ে গেলেও নিয়োগ পরীক্ষার কোন রেজাল্ট দেয়া হয়নি। চাকুরির আশ্বাস দিয়ে আমার নিকট ৭ লাখ টাকা নিয়েছেন ওই অধ্যক্ষ। অথচ তিনি লাপাত্তা হয়ে গেছেন।

নিয়োগ কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য ও মামলার বাদি শফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার পর থেকে অধ্যক্ষ মাদ্রাসায় আসেননি। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরও নেই তার। কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে তিনি আত্মগোপন করেছেন। ফলে মাদ্রাসার প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে পড়ায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষন করে কোন সুরাহা না পেয়ে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়েছি।

এসব অভিযোগের বিষয় জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান বলেন, আমি অবসর গ্রহনের আগেই ৫জনকে নিয়োগ দিয়েছি। বর্তমানে আমি অবসরে থাকায় কিছু বলতে পারছি না।

অপরদিকে মাদ্রাসা গর্ভানিং বডির সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম জালাল এ বিষয়ে কোন কথা বলতে অপারগদা প্রকাশ করেন।  

 

 

 

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়