১০ ফাল্গুন, ১৪৩০ - ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ - 23 February, 2024
amader protidin

দিনাজপুরে দু’দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস

আমাদের প্রতিদিন
1 month ago
66


 হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন: হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর ভীড়

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহ আর হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনাজপুরসহ দেশের উত্তর জনপদের স্বাভাবিক জনজীবন। গত দুদিন ধরে দিনাজপুরে বিরাজ করছে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকাল রোববার (১৪ জানুয়ারী) দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনাজপুরে এটিই এই শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষনাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, পৌষের শেষে এসে দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলে কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। রোববার দিনাজপুরে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার এটিই ছিলো দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা। এর আগের দিন শনিবারও দিনাজপুরে দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরের হিমেল বাতাস প্রবাহিত করার কারনে শীতের তীব্রতা বেড়েছে বলে জানান তিনি।

রাতভর বৃষ্টির মত ঝিরঝির করে কুয়াশা পড়ছে। ভোর হতেই সাদা ধোঁয়ার মত কুয়াশায় ঢেকে থাকছে রাস্তাঘাট-লোকালয়। সেইসাথে বইছে হিমেল বাতাস।  দশহাত দূরের মানুষ কিংবা কোন বস্তুকে দেখা যাচ্ছেনা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশা কমলেও ঠান্ডা বাতাসে জড়োসড়ো হয়ে থাকছেন মানুষ। গরম কাপড় পরিধানের পাশাপাশি আবর্জনা, খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। রাতের মত দিনেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে দূর পাল্লার যানবাহন। তীব্র শীতে শিশু ও বয়স্করা পড়েছেন বিপাকে। প্রচন্ড শীত ও ঠান্ডা বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে জনজীবন ও অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণী। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুরা নানা শীতজনিত রোগে ভুগছেন। আক্রান্তদের অনেকেই ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে।

রোববার সকালে ২৫০শয্যা বিশিষ্ট দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে রোগীদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। রোববার সকাল ১১টা পর্যন্ত হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ২০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি আছেন ৩৪ জন। এছাড়াও প্রতিদিন বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন দেড় থেকে দুই শতাধিক শিশু। হাসপাতালে ভর্তি প্রায় সব শিশুই সর্দ্বি কাশি, শ্বাসকষ্টজনিত রোগ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টার্ফ নার্স বিপাশা তালুকদার জানান, আজকে পর্যন্ত (রোববার) ৩৪জন শিশু ভর্তি আছেন। প্রায় সব বাচ্চার সমস্যা ঠান্ডাজনিত।

একই অবস্থা ডায়রিয়া ওয়ার্ডেও। হাসপাতালের নীচতলায় ১০শয্যার বিপরীতে রোববার ভর্তি আছেন ১৬জন। আবাসিক মেডিকেল অফিসার পারভেজ সোহেল রানা বলেন, দগত দশদিনের শৈত প্রবাহে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। গড়ে ৫-৭জন রোগী থাকেন ডায়রিয়া ওয়ার্ডে। সেখানে এখন রোগী আছেন ১৬জন। আমরা সাধ্যমত রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

তবে শিশুদের ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ঘাবড়ানোর কারন নেই এমনটাই বলছেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ আব্দুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, প্রচন্ড ঠান্ডায় শিশুরা শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ সময়ে শিশুদেরকে গরম কাপড় পরিধান এবং ঘরে রাখতে হবে। শীতকালে এমনিতেই বাচ্চারা খাবার কম খায়। এতে উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই। এছাড়াও ৪-৫ দিন বাচ্চাকে গোসল না করালেও সমস্যা নেই। গরম পানিতে নরম কাপড় ভিজিয়ে বাচ্চার শরীর মুছে দিতে হবে।

এদিকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে দিনাজপুরসহ এই অঞ্চল। ঘন কুয়াশার কারনে দিনের বেলাতেও দেখা মিলছে না সূর্য্যরে। সড়ক ও মহাসড়কে দিনের বেলাতেও যানবাহন চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।

হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশার কারনে সুর্য্যরে আলো না থাকায় অনুভুত হচ্ছে কনকনে শীত। তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবি মানুষ পড়েছে বিপাকে। পেটের তাগিদে কাজের সন্ধ্যানে বের হয়েও তারা ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। অফিস আদালতে কমেছে সেবা গ্রহিতাদের উপস্থিতি, শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানগুলোতে উপস্থিতি কমেছে শিক্ষার্থীদের।

 

 

 

 

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়