৯ ফাল্গুন, ১৪৩০ - ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ - 21 February, 2024
amader protidin

দিনাজপুরে অব্যাহত তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত:দুর্ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ

আমাদের প্রতিদিন
1 month ago
24


‘অবশ হওয়া হাতগুলো একটু গরম করে নিচ্ছি’

          বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুর শহরের বাস টার্মিনাল-এর অদুরে খামার কাচাই এলাকায় সুচনা পেট্রোল পাম্পের কাছে একটি ট্রাকের গ্যারেজ। বুধবার দুপুরে সেই গ্যারেজে গিয়ে দেখা যায় ট্রাকের ৬/৭ জন মিস্ত্রি ও তাদের সহযোগী কাজ বাদ দিয়ে জড়োসড়ো হয়ে খরকুটো জ্বালিয়ে আগুন তাপছে। তাদের সাথে কথা বলতেই ট্রাকের ইঞ্জিন মিস্ত্রি মোঃ জীবন আলী বলেন, লোহার যন্ত্রপাতি নিয়ে আমাদের কাজ। তীব্র এই শীতে লোহার যন্ত্রপাতি বরফের চেয়ে ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। বেশীক্ষন হাতে রাখলে হাতও থোপসা (অবশ) হয়ে যাচ্ছে। তাই বেশীক্ষন কাজ করা যাচ্ছে না। আবার সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারলেও গ্যারেজ মালিকের চাপ। তাই কাজ করতে করতে অবশ হওয়া হাতগুলো আগুনো একটু গরম করে নিচ্ছি। জীবন আলী বলেন, কি আর করার আছে। হাত থোপসা হলেও পেট তো আর চুপচাপ থাকবে না। তাই পেটের তাগিদেই কাজ করতে হচ্ছে তীব্র এই শীতের মধ্যে।

পাশেরই কার ও মাইক্রোবাস মেরামতের গ্যারেজ। সেখানেও বেশ কয়েকটি কার ও মাইক্রোবাস মেরামতের অপেক্ষায়। তীব্র শীত উপেক্ষা করে মিস্ত্রি ও শ্রমিকরা মেরামতের কাজ করছে কাঁপতে কাঁপতে। ওই গ্যারেজের মালিক ও ইঞ্জিন মিস্ত্রি আরমান আলী বলেন, তীব্র শীতে বেশী কাজ করা যাচ্ছে না। আবার এই শীতে সবাই তাড়াতাড়ি গাড়ী মেরামতের চাপ দিচ্ছে। কারন তাদের জন্যও এই শীতে গাড়ীর প্রয়োজন। তাই শীতে চরম কষ্টের মধ্যেই গাড়ীগুলো মেরামত করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এভাবে আর কতদিন শীত থাকবে। এভাবে বেশীদিন চললে আমাদের মতো মানুষের খুবই কস্ট।

নিম্ন আয়ের শ্রমজীবি মানুষের এমন দুরবস্থার মধ্যে কাজ করতে হলেও দিনাজপুরসহ উত্তরের এই জনপদে হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে কাঁপছে সব শ্রেনীপেশার মানুষ। অব্যাহত শীতের কারনে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে ছিন্নমুল ও অসহায় মানুষ। সন্ধ্যার পরপরই জনশুন্য হয়ে পড়ছে শহরের রাস্তাঘাট।

এদিকে অব্যাহত শীতের কারনে দিনাজপুরে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ শীত জনিত বিভিন্ন রোগে।

দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ এ.এইচ.এম বোরহান উল আলম সিদ্দিকী জানান, গত তিন দিনে দিনাজপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৩২৭ জন এবং শ^াসকষ্টজনিত কারনে ৬৩১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষনাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, বুধবার (১৭ জানুয়ারী) দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ছিলো ৯৫ শতাংশ। সকালে তেমন বাতাস প্রবাহিত না হলেও ৯টা থেকে শুরু হয় উত্তরের হিমেল বাতাস। তিনি জানান, এর আগের দিন সোমবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগের দিন রোববার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার এটিই ছিলো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এবং দিনাজপুরে এই শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

অন্যদিকে অসহায় শীতার্ত মানুষের শীত নিবারনে দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলায় মোট ৬৫ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়