১০ ফাল্গুন, ১৪৩০ - ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ - 22 February, 2024
amader protidin

বিরলে খননকৃত নদী-নালার পাড় কেটে মাটি বিক্রির মহোৎসব

আমাদের প্রতিদিন
1 month ago
59


প্রশাসন নীরব

আতিউর রহমান, বিরল:  

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার তুলাই নদী ও নদীর সাথে সংযোগ হওয়া বিভিন্ন নালার খননকৃত পাড়ের মাটি বিক্রির মহোৎসব চলছে। সরকারের গৃহিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। স¤প্রতি বিরল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরজমিনে গিয়ে নদীর পাড়ের মাটি কেটে বিভিন্ন ইট ভাটায় নিয়ে যেতে দেখা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে নীরব।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিরল উপজেলার তুলাই নদী ও তুলাই নদীর সাথে সংযোগ হওয়া বিভিন্ন নালা খনন করা হয়। তুলাই নদী ও নালার পাড় দেদারসে কেটে মাটি বিক্রির প্রতিযোগিতা শুরু করেছে একটি সিন্ডিকেট।

সোমবার বিকেলে বিরল উপজেলার ৪ নং শহরগ্রাম ইউনিয়নের ফুলবাড়ী হাটের পশ্চিম পাশের তুলাই নদীর পাড় ভেকু (এস্কেভেটর) দিয়ে পাড়ের মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। ১০ থেকে ১২ টি ট্রলিতে করে নদীর পাড় কেটে বিক্রি করছেন ওই এলাকার জনৈক রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তি। ওই মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়। এছাড়াও উপজেলার ৯ নং মঙ্গলপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খননকৃত সোনাই নালার দুই পাড়ের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ভেকু (এস্কেভেটর) দিয়ে পাড়ের মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে। আর ওই মাটি বিক্রি করছে রঘুনাথপুর (সরাহার) গ্রামের ট্রাক্টর ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান।

উত্তর রঘুনাথপুর অংশে দুইটি ভেকু (এস্কেভেটর) দিয়ে মাটি ও প্রায় ২৫/৩০ টি ট্রাক্টরের সাহায্য নিয়ে পাড়ের মাটি নিয়ে যাচ্ছেন। নদীর পাড় কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, উপজেলা প্রসাশনের অনুমতি নিয়েই নদীর পাড় কাটার কথা। তারা এই মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই মাটি তারা বিভিন্ন ইট ভাটা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন খাল ভরাট করছেন প্রতি ট্রলি ৬০০-৬৫০ টাকা হারে। প্রসাশন কর্তৃক অনুমতি আছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা জানান বিআইডবিøউটিএ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট থেকে অনুমতি নিয়েই নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রি করছেন। অনুমতিপত্র দেখতে চাইলে তারা উল্টো ইউএনও এবং বিআইডাবিøউটিএ’র অফিসে খোঁজ নিতে বলেন। তবে অনেক স্থানীয় ও এক মাটি বিক্রেতা স্বীকার করে বলেন অবৈধভাবে পাড় কেটে এই মাটি কাটতে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী নিজেই বাঁধা দেওয়ার কারণে নিজেরা আর মাটি পাড় কাটা ও মাটি বিক্রি বন্ধ করেছেন। বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার অফিসে যোগাযোগ করলে এমন অবৈধভাবে কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি মর্মে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বহ্নি শিখা আশা। পরে তিনি অবৈধভাবে পাড় কেটে মাটি বিক্রির বিষয়টি জানতে পারলে তা বন্ধ করে দেওয়ার কথাও জানান। একদিন বন্ধ থাকার পর আবারো সেই পয়েন্টগুলোতে একই কার্য্যক্রম লক্ষ্য করা যায়।

এবিষয়ে বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বহ্নি শিখা আশা এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাটি কাটার বিষয় জানেন না। কোথায় কোন জায়গায় নদীর পাড় কাটা হচ্ছে তিনি দেখবেন বলেও জানান।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়