৯ ফাল্গুন, ১৪৩০ - ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ - 21 February, 2024
amader protidin

দিনাজপুরে তাপমাত্রা নেমেছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে:শ্রেনী কার্যক্রম চলেছে বেশীরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

আমাদের প্রতিদিন
1 month ago
27


দিনাজপুর প্রতিনিধি:

হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনাজপুরসহ দেশের উত্তর জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তীব্র শীতে কাঁপছে এই অঞ্চলের মানুষ। বইছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ। দিনাজপুরে বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারী) তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এদিকে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নামলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত থাকলেও তীব্র শীত উপেক্ষা করে দিনাজপুরের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেনী কার্যক্রম চলেছে যথারীতি।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষনাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, দিনাজপুরে গতকাল বুধবার (১৭ জানুয়ারী) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারী) তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বৃহস্পতিবার বাতাসের আদ্রতা ছিলো ৯৫ শতাংশ। তিনি জানান, দু’দিন পর দিনাজপুরে আবার বইতে শুরু করেছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ।

গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহত তীব্র শীতের কারনে দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত হচ্ছে। তবে সকাল ১০টার পর সূর্য্যরে আলো থাকায় মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে।

এদিকে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে আসলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার নির্দেশনা দেয় শিক্ষা অধিদপ্তর। কিন্তু বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারী) দিনাজপুরের তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বিরাজ করলেও শ্রেনী কার্যক্রম চলেছে বেশীরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। দুপুর থেকে বন্ধ রাখা হয় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম।

বেশীরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দের মধ্যে থাকায় তীব্র শীত উপেক্ষা করে শ্রেনী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে দেখা যায় শ্রেনী কার্যক্রম চলছে যথারীতি। যদিও তীব্র শীতের কারনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো কম।

দিনাজপুর শহরের বাহাদুরবাজার এলাকার অভিভাবক মুস্তফা কামাল বলেন আমরা বড়রাই শীতে কাহিল হয়ে পড়েছি। সেখানে ছোটদেও অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে শীত কমে না আসা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার দাবী জানান তিনি।

তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলেও বিদ্যালয় খোলা রাখার বিষয়ে দিনাজপুর শহরের ইকবাল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সেলিমা সুলতানা বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনার কোন চিঠি আমরা পাইনি। যেহেতু চিঠি কিংবা কোন নির্দেশনা পাইনি, তাই বিদ্যালয় খোলা রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির দিনাজপুর জেলা শাখার যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ লোকমান হাকিম জানান,  তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে শিক্ষা মন্ত্রনাণলয় ও শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়ে স্পষ্ঠীকরণ না থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা দ্বিধা-দ্বন্দের মধ্যে পড়েছে। আঞ্চলিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং জেলা শিক্ষা অফিসও বিষয়টি আমাদের পরিস্কার করেননি। তিনি বলেন, আাবহাওয়া অফিস প্রতিদিন তাপমাত্রা রেকর্ড করেন সকাল ৯ টায়। সকাল ৯টায় বেশীরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। এরপর বন্ধের নির্দেশনা আসলে তা কিভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব? আগের দিন ঘোষনা না আসলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তাই তাপমাত্রা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি স্পষ্ঠ করার দাবী জানান তিনি।

এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম দুপুর ১২টায় বলেন, আমরা সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বিষয়টি জানার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। তবে সকালে প্রথম শিফটের শিক্ষার্থীরা চলে আসায় প্রথম শিফটের শ্রেনী কার্যক্রম চলেছে। দ্বিতীয় শিফটের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শিফট চলে সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় শিফট চলে দুপুর ১২ টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত।

দিনাজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, তাপমাত্রার বিষয়টি নিয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সাথে বৃহস্পতিবার বৈঠক করা হয়। শৈত্যপ্রবাহ ও তাপমাত্রা এরকমই থাকলে এরপর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়