৮ ফাল্গুন, ১৪৩০ - ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ - 21 February, 2024
amader protidin

গণসংবর্ধনায় মানুষের ঢল ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন বাবলু এমপি

আমাদের প্রতিদিন
3 weeks ago
100


গঙ্গাচড়া(রংপুর)প্রতিনিধি:

গণসংবর্ধনায় ফুলে ফুলে সিক্ত হলেন রংপুর-১আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান বাবলু। শপথ গ্রহণের পর আজ বৃহস্পতিবার  (২৫জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় সর্বস্তরের মানুষ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।  হাজার হাজার নেতাকর্মীসহ আওয়ামী লীগ  ও সহযোগী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ব্যক্তি পর্যায়  থেকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয় এই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে।

এর আগে দুপুর থেকে তাকে বরণ করতে জনস্রোতে কানায় কানায় পুর্ন হয়ে যায় উপজেলা পরিষদ  চত্বর। কেউ কেউ চত্বরের পাশে গাছে উঠে তার বক্তব্য শুনতেও দেখা যায়। অনুষ্ঠান স্থলে তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সন্মানিত অতিথি ছিলেন রংপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু।

গঙ্গাচড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও আসাদুজ্জামান বাবলুর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুল মতিন অভি জানান, রংপুর-১ আসনে আমাদের ঐতিহাসিক বিজয় হয়েছে। সুদীর্ঘ ৩৮ বছর পর অভূতপূর্ব গণজাগরণের মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। গঙ্গাচড়ার কৃতিসন্তান তারুণ্যের প্রতীক আসাদুজ্জামান বাবলু সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এমন বিজয় আসেনি এই নির্বাচনী এলাকায় মহান স্বাধীনতার ৫৩ বছরের ইতিহাসে।

আমরা অবনত শ্রদ্ধা জানাই আমাদের সম্মানিত ভোটার ভাই-বোনদেরকে। এই সূবর্ণ ইতিহাসের পথ পরিক্রমায় আমরা নির্মাণ করব এক সুন্দর আগামী-আলোকিত গঙ্গাচড়া। গড়ে তুলব গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ।

আসাদুজ্জামান বাবলু মাত্র ২৫ বছর বয়সে প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন।  এরপর উপজেলা চেয়ারম্যান। ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এখন জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বাজিমাত করেন আসাদুজ্জামান বাবলু।

জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই নেতার চমকে আনন্দে ভাসে গঙ্গাচড়া।

জানা যায়, পড়াশোনা শেষ করেই ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গঙ্গাচড়া ইউনিয়ন থেকে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আসাদুজ্জামান বাবলু। নিরলস পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন। নিজ ইউনিয়ন ছাড়াও আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে তার জনপ্রিয়তা। এরপর ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করলেও তার পদত্যাগ গ্রহণ করা হয় না। এ কারণে সেবার অংশ নিতে পারেননি। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আর অংশ নেননি।

এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনেক আগে থেকে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামেন এই নেতা।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইলেও তাকে দেওয়া হয়নি। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন। তফশিল ঘোষণার আগে থেকেই তিনি  গণসংযোগ, বিভিন্ন ধর্মীয়-সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গিয়েছেন ভোটারদের কাছে। বিশেষ করে যুবকদের আকৃষ্ট করেছেন বাবলু।

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জেলার সর্বোচ্চ ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন  হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (জাতীয় পার্টি),  মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি (স্বতন্ত্র), আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান বাবলু (স্বতন্ত্র), বখতিয়ার হোসেন (বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি), বদরুদ্দোজা চৌধুরী (তৃণমূল বিএনপি), সদ্য জাতীয় পার্টিতে যোগদান করা শাহিনুর আলম (স্বতন্ত্র), হাবিবুর রহমান (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি) ও শ্যামলী রায় (বাংলাদেশ কংগ্রেস)। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে রংপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুর রউফ নির্বাচিত হন। এরপর দু’বার বিএনপি ও টানা ৮ বার জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির ময়েন উদ্দিন সরকার নির্বাচিত হয়েছিলেন।

গঙ্গাচড়াবাসীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল , স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা বিভিন্ন  জেলা-উপজেলা থেকে এসে রংপুর-১ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটের পর এলাকার কেউ খোঁজ-খবর রাখেননি। তাই তিস্তা নদীবেষ্টিত গঙ্গাচড়ার কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি।  এবার সেই আশা পূরণ হলো এলাকাবাসীর।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়