১৬ ফাল্গুন, ১৪৩০ - ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ - 29 February, 2024
amader protidin

কুড়িগ্রামে রেলপথ সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

আমাদের প্রতিদিন
3 weeks ago
46


আহসান হাবীব নীলু,কুড়িগ্রাম:

কুড়িগ্রামে রেলপথের দু’দিকের মাটি সংস্কারের নামে চলছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি। এরফলে সরকারের কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ ভেস্তে যেতে বসেছে। রেলের স্লোপ থেকে গর্ত করে নিম্নমানের মাটি উত্তোলন করে সেই মাটি ফেলা হচ্ছে রেলেই। কমপেকশন ও কোন স্থর বিন্যাস ছাড়াই মাটি ভরাট করার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সাবেক জায়গায় নেমে যাবে সেই মাটি। ফলে এই কাজে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা লাভবান হলেও রেলপথের কার্যত কোন উন্নয়ন হবে না।

রেলের কন্ট্রাক্ট এগ্রিমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থেকে চিলমারী উপজেলার রমনা বাজার পর্যন্ত  ১০ কিলোমিটার রেলপথের মাটি সংস্কারের দায়িত্ব পান ঢাকাস্থ বিশ্বাস কন্সট্রাকশন। ১ কোটি ৬৭ লাখ ২১ হাজার ৮২০ টাকার মাটির কাজে দূর থেকে পরিবেশগত বিপদজনক পদার্থ থেকে মুক্ত উন্নতমানের মাটি সংগ্রহ করে ফেলার চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হয়। কিন্তু মুল ঠিকাদার সাব ঠিকাদারের মাধ্যমে অনভিজ্ঞ শ্রমিক দিয়ে দিন হাজিরা হিসেবে দূর থেকে গুণগতমানের মাটি সংগ্রহ না করে রেলের স্লোপ থেকে মাটি কেটে সেই মাটি আবার ফেলছেন রেলেই। টানা একমাস ধরে কোন নিয়ম কানুন ছাড়া ফেলা হচ্ছে নিম্নমানের মাটি। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা ফিল্ডে এসে অনিয়মগুলোর বিরুদ্ধে কোন প্রতিকার না করেই উল্টো ঠিকাদারদের সাথে খোশগল্প করে ফিরে যাচ্ছেন কর্মস্থলে।

দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই অনিয়ম। দেখার যেন কেউ নেই। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কার্য এলাকায় কোন সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। স্তর বিন্যাস ও কমপেকশন ছাড়াই চলছে মাটির কাজ।

উলিপুরের তবকপুর ইউনিয়নের মিয়াপাড়া গ্রামের সাবেক রেলকর্মচারী আমির উদ্দিন মিস্ত্রী (৭৫) জানান, কোন বাছবিচার ছাড়াই এরা স্লোপের পাশে গর্ত করে মাটি সংগ্রহ করছে। এরফলে কোথাও ভালো মাটি, কোথাও বা বালুমাটি কোন কমপেকশন ছাড়াই ফেলছে। এই মাটি থাকবে না। বৃষ্টি হলেই ধ্বাসে পরবে।

ওই গ্রামের মাঈদুল ইসলাম জানান, স্লোপের ডিজাইন তারা মানছেন না। খাড়া করে মাটি ফেলায় সে মাটি টিকবে না।

কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রবীন হিতৈষী সংঘের সভাপতি এ কে এম সামিউল হক নান্টু বলেন, আমরা প্রায়ই দেখি বন্যা হলেই চিলমারী রুটের রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরকম কাজ হলে এই রেলপথ কখনো মানুষের উপকারে আসবে না। রেলের উন্নয়নে দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া উচিৎ। যাতে তারা অন্যায় করতে না পারে।

কুড়িগ্রাম সু—শাসনের জন্য নাগরিক(সুজন) কমিটির সভাপতি খাইরুল আনম জানান, রেলপথ উন্নয়নের নামে এখানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হচ্ছে। দেকভালেরও যেন কেউ নেই। ফলে সরকারের এই কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ কোন সুফল বয়ে আনবে না।

লালমনিরহাট রেলওয়ের ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার আহসান হাবীব তিনবার ওই ফিল্ডে পরিদর্শনে গেলেও তিনি সেটা অস্বীকার করে জানান, আমি দু’সপ্তাহ ধরে সেখানে ভিজিট করার সুযোগ পাই নি। কাজে কোন সমস্যা থাকলে আমি ইন্সপেকশন করে সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নিবো।

অনিয়ম নিয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, আমরা জানতে পেরেছি রেলপথ সংস্কারের কাজে ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে। যাতে স্পেসিপিকেশন অনুযায়ী কাজ হয় তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরবো।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়