৯ ফাল্গুন, ১৪৩০ - ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ - 21 February, 2024
amader protidin

রৌমারীতে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দিলে চেয়ারম্যান, থানায় জিডি

আমাদের প্রতিদিন
1 week ago
57


রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:

দৈনিক একটি পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করায় কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইমান আলীর বিরুদ্ধে।

সোমবার বেলা দুই ঘটিকার সময় রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুদ রানা দৈনিক বাংলা পত্রিকায় রৌমারী ও চররাজিবপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

পরে ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক রৌমারী থানায় গিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইমান আলীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। এ ঘটনায় রৌমারীর স্থানীয় সাংবাদিকরা অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সাধারণ ডায়রি সূত্রে জানাগেছে, সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে রৌমারী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিস কক্ষে এক বিজ্ঞাপন প্রচারের বিষয় নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলোচনা চলাকালে রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইমান আলী এসেই মাসুদ রানাকে উদ্দেশ্যো করে বলেন, তোমার বাড়ি কই?, তোমার বাবার নাম কি?, তুমি আমার বিরুদ্ধে সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার কেন করেছে?, তখন ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক মাসুদ রানা উপজেলা চেয়ারম্যান ইমান আলীকে উচ্চ স্বরে কথা না বলার জন্য অনুরোধ করলে তিনি (চেয়ারম্যান) রাগান্বিত হয়ে ওই  সাংবাদিককে গালিগালাজ শুরু করেন।

তখন ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ইমান আলী চেয়ার থেকে উঠে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুদ রানা ও আরেক ভুক্তভোগি দৈনিক ভোরের কাগজের রৌমারী উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মাসুদ পারভেজ রুবেলসহ দুজনকে মারপিট করার জন্য যায়। তখন ইউএনওসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপজেলা চেয়ারম্যান ইমান আলীকে শান্ত হতে বলেন। কিন্তু তিনি শান্ত না হয়ে উল্টো ভুক্তভোগি সাংবাদিক মাসুদ রানা কে উদ্দেশ্যো করে প্রাণনাশের হুমকি দেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে রৌমারীর সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান তারা, এসএম সাদিক হোসেন, শওকত আলী মন্ডল, রফিকুল ইসলাম সাজু, শফিকুল ইসলাম, শাহাদত হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন সাখাসহ সকলেও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের এমন কর্মকান্ডে ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা আরও বলেছেন, অবিলম্বে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইননানুক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে।

এ ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে মুঠোফোনে জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ হাসান খান স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল। পরে শান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনা আমার অফিসে হবে তা ভাবতে পারিনি।

অভিযোগের বিষয়ে রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ইমান আলী মুঠোফোন স্বীকার করে বলেন, সরকারি গাড়ি নিয়ে যাত্রামঞ্চে আমি দোয়া, ভোট চেয়েছি। কিন্তু সেখানেতো কোন ভাবেই অশ্লীল নৃত্য, জুয়া খেলা হয়নি। থানাপুলিশ এসব সাংস্কৃতিক যাত্রা সম্পর্কে ভালো বলেছেন। তিনি আরও বলেন, পত্রিকায় সেদিন মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছে। আর সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) প্রকাশ করায় ওই সাংবাদিক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ডিজিটাল এক্ট আইনে মামলা করবো বলে জানান।

প্রসঙ্গত, গত ৯ ফেব্রুয়ারি সরকারি গাড়ি নিয়ে নিয়ে ‘রৌমারীতে যাত্রামঞ্চে ভোট চাইলেন উপজেলা চেয়ারম্যান’ শিরোনামে দৈনিক আমাদের প্রতিদিন ও দৈনিক যুগান্তরসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদটি ফলাও করে প্রকাশিত হয়। পরে নানা মহলে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।

 

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়