১০ বৈশাখ, ১৪৩১ - ২৪ এপ্রিল, ২০২৪ - 24 April, 2024
amader protidin

রংপুরে বিসিক দ্বিতীয় শিল্প নগরীর প্রস্তাবনা

আমাদের প্রতিদিন
1 month ago
84


নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরে ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) অধীন দ্বিতীয় শিল্প নগরীর স্থাপনের আবেদন আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই বিসিকের ২য় শিল্প নগরী তৈরিতে জমির বিষয়ে রংপুরে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে বিসিক। জেলা প্রশাসক আন্তরিকতার সাথে বিষয়টি দেখছেন বলে জানাগেছে।

এদিকে  জমির অভাবে বিভাগীয় নগরী রংপুরে পরিকল্পিতভাবে শিল্পের বিকাশ হচ্ছে না বলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প নির্মাণে ইচ্ছুক একাধিক উদ্যোক্তা জানিয়েছেন।

তবে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের দাবি, বিসিক’র দ্বিতীয় শিল্প নগরী স্থাপন কার্যক্রম সচল করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিসিক শিল্প নগরীর ১ম প্লট শেষ হওয়ায় স্বভাবতই এ অঞ্চলের বর্ধিত জনসংখ্যার কর্মসংস্থান তৈরির চাহিদা পূরণে সমস্যা হচ্ছে।

বিসিক ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরীর সিও বাজার কেল্লাবন্দ এলাকায় ১৯৭৪ সালে বিসিক শিল্প নগরী স্থাপনের  জন্য ২০ দশমিক ৬৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। শিল্প কারখানার জন্য ৮২টি প্লট নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি প্লটের সাইজ হচ্ছে নিম্নে ৯ হাজার বর্গফুট এবং উর্ধ্বে ১৮ হাজার বর্গফুট। বর্তমানে ২৫টি কারখানা চালু আছে। শিল্প উদ্যোক্তাদের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জেলার দোকান মালিক সমিতি, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন শিল্প উদ্যোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী সংগঠন বার বার বিষয়গুলো বিভিন্ন ফোরামে বললেও কাজ হচ্ছে না। বিষয়টি উপলব্ধি করে জেলা বিসিক কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন।

এর পর রংপুরের জেলা প্রশাসন নগরীর অদূরে সদর উপজেলায় দ্বিতীয় বিসিক শিল্প নগরী স্থাপনে ১০০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন। এর ফলে নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে রংপুরের উদ্যাক্তাসহ সাধারণ মানুষজন।

রংপুর বিসিক’র ডিজিএম (ভারপ্রাপ্ত) এহেছানুল হক বলেন, আমরা বিসিক ২য় শিল্প নগরী তৈরিতে জমির বিষয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছি। জেলা প্রশাসক আন্তরিকতার সাথে বিষয়টি দেখছেন।

এবিষয়ে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান  জানিয়েছেন,  বিসিক ২য় শিল্প নগরীর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও অর্থনৈতিক অঞ্চল, উপশহর, এলাকা ভিত্তিক শিশু পার্কের প্রস্তবনা পাঠানো হয়েছে। বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন ও দ্রুত সময়ে বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি জানান।

 

রমজানের শুরুকেই রংপুরে নিত্যপণ্যের

বাজার চড়া, বিপাকে ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক\

রংপুর সহ সারাদেশে শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান মাস। এই রমজান মাসকে ঘিরে বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্যের দাম। প্রতিদিনই বাড়ছে সব পণ্যের দাম। একটি অসাধু চক্র নিজেদের ইচ্ছেমত দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে অস্থির হয়ে উঠেছে বাজার। পণ্যের দামে এমন আগুন লাগায় চরম বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। নিয়মিত বাজার মনিটরিং না করায় এমন দাম বাড়ছে বলেও অভিযোগ অনেকেই অভিযোগ করেছে।

মঙ্গলবার রংপুর নগরীর সিটি বাজার, ধাপ বাজার, সিও বাজার, কামাল কাছনা, লালবাগহাট, মর্ডাণ মোড়, চকবাজার, মাহিগঞ্জ, সাতমাথা, বুড়িরহাট, কেরানিরহাট সহ বিভিন্ন হাট ও  বাজার ঘুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম চড়া বলে জানাগেছে। বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছেমত দাম নিচ্ছেন। যেন দেখার কেউ নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোন নজরদারি নেই বলে ক্রেতাসহ সাধারণ মানুষজন জানিয়েছেন।

খেঁাজ নিয়ে জানাগেছে, এবার রমজানেও সবজির বাজার চড়া। একদিনের ব্যবহানে দাম বেড়েই কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।  বর্তমানে চিকন বেগুন ৭০ টাকা এবং মাঝারি ও গোল বেগুন ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া টমেটো ৩০—৪০, গাজর ২৫—৩০ টাকা, পেঁপে ২৫—৩০ টাকা, করলা ১৩০—১৪০ টাকা, লেবু প্রতিহালি ১০—১৫ টাকা থেকে লাফিয়ে ২৫—৩০ টাকা, শুকনা মরিচ ৪৮০—৫০০ টাকা, প্রতি পিস লাউ (আকারভেদে) ৫০—৬০ টাকা, পটোল ১২০ টাকা, দেশি রসুন ১৪০—১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০ টাকা। এ ছাড়া পোল্টি্র মুরগির ডিমের হালি ৪০—৪২ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এখানে প্রতিটি পণ্যের দাম ১০—১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এছাড়াও বাজারে কার্ডিনাল আলু ৩০ টাকা, শিল আলু ৫০ টাকা, বগুড়ার সাদা পাকরি আলু ৪০ টাকা, গ্রানুলা ৩৫—৪০ টাকা এবং ঝাউ আলুর দাম বেড়ে ৫০—৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে কাঁচামরিচ ৬০ থেকে এক লাভে ৯০ টাকা টাকা এবং দেশি আদার কেজি ২২০—২৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে বিক্রেতারা বলেন, রমজান মাসে বেগুনের চাহিদা বেড়ে যায়, কিন্তু আমদানি কম থাকায় দাম বেড়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, খোলা চিনি ১৪৫—১৫০ টাকা, প্যাকেট আটা আগের মতোই ৫৫—৬০ টাকা, খোলা আটা ৪৮—৫০ টাকা, ছোলাবুট ৯৫—১০০ টাকা, প্যাকেট ময়দা ৭০ টাকা, মসুর ডাল (মাঝারি) ১২০ টাকা, চিকন ১৩৫—১৪০ টাকা, মুগডাল ১৭০—১৮০ টাকা এবং বুটডাল ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৯০—২০০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগির দাম বেড়ে ৩১০—৩২০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিড ২৭০—২৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২৯০—৩০০ টাকা, পাকিস্তানি লেয়ার ২৯০—৩০০ টাকা এবং দেশি ৪৮০—৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫২০—৫৩০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে গরুর মাংস ৬৮০ থেকে ৭২০ টাকা এবং খাসির মাংস ৮০০—৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর চকবাজার এলাকার মুরগি বিক্রেতা আল—আমিন বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম সামান্য কমলেও অন্য জাতের মুরগির দাম বেড়েছে।

তেলের বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন আগের মতোই ১৭৩ টাকা এবং দুই লিটার ৩৪৬ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৬০—১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে রুই মাছ ২৫০—৩৫০ টাকা, মৃগেল ২২০—২৫০ টাকা, কারপু ২০০—২২০ টাকা, পাঙাস ১৫০—১৬০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০—১৬০, কাতল ৪০০—৪৫০ টাকা, বাটা ১৬০—১৮০ টাকা, শিং ৩০০—৪০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০—২৫০ টাকা এবং গছিমাছ ৮০০—১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এবিষয়ে রংপুর ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছি। রমজান মাসে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়