১৯ মাঘ, ১৪২৯ - ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ - 01 February, 2023
amader protidin

রংপুরে সমবায় ব্যাংক ভবনের দোকানঘর বরাদ্দে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

আমাদের প্রতিদিন
3 weeks ago
22


নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের বর্তমান কমিটির চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মণ্ডলের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন সমবায় ব্যাংক ভবনের পুরাতন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, বর্তমান চেয়ারম্যান সমবায় ব্যাংকের নির্মিত বহুতল ভবনে দোকানঘর বরাদ্দে অনিয়ম ও বৈষম্য সৃষ্টি করছেন। শর্তানুযায়ী অর্থ জমা করার পরও দোকানঘর বরাদ্দের বিষয়ে সময়ক্ষেপন ও টালবাহানা করছেন চেয়ারম্যান।

         শর্তানুযায়ী অর্থ জমা করার পরও টালবাহানা

আজ (০৯ জানুয়ারি) সোমবার দুপুরে রংপুর মহানগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুরাতন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তারিকুল ইসলাম মানিক। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী দেবদাস ঘোষ দেবু, চৌধুরী শামীনুর জামান, মোস্তাফিজ বিল্লা ওসমান, সাজু মিয়া, দেবাশিষ দাস প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে তারিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যুগ যুগ ধরে সমবায় ব্যাংক মার্কটে বরাদ্দকৃত দোকানঘরে ব্যবসা করে আসছিলাম। ২০১৪ সালে রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের দুই বছর মেয়াদকালীন অন্তর্র্বতী ব্যবস্থাপনা কমিটির তৎকালীন সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র সরফুদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টুসহ কমিটির সাথে আলোচনা সাপেক্ষে গৃহীত লিখিত সিদ্ধান্তের আলোকে আমরা পুরনো ব্যাংক ভবনসহ মার্কেটের সকল দোকানঘর ছেড়ে দিয়েছিলাম। ওই সময় দোকানঘর মালিক ও ব্যবসায়ীরা প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে নতুন করে দোকানঘর বরাদ্দের জন্য টাকাও জমা করেছিলাম। আমরা আশায় আছি নতুন ভবনে দোকানঘর বরাদ্দ নিয়ে আমরা ব্যবসায়ীরা সুখী-সমৃদ্ধ জীবনযাপন করব। কিন্তু নির্মিত কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক বিপণী বিতানের বর্তমান ভবনে ইতোমধ্যে অনেককেই দোকানঘর বুঝিয়ে দেয়া হলেও আমাদেরকে দোকানঘর হস্তান্তর করতে কমিটির লোকজন টালবাহানা করছেন। এতে করে পুরাতন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা স্থাবর-অস্থাবর হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ী দেবদাস ঘোষ দেবু ও চৌধুরী শামীনুর জামান জানান, পুরাতন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। যার ব্যাংক স্লিপ, রিসিভ কপি ও বিভিন্ন সময়ের চিঠিপত্র তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বর্তমান কমিটির চেয়ারম্যান তাদেরকে দোকানঘর বরাদ্দে দিতে দীর্ঘসূত্রিতার আশ্রয় নিয়েছেন। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান দোকানঘর বরাদ্দে স্বজনপ্রীতি, নিজের স্বার্থসিদ্ধি করাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন। 

এসময় অবিলম্বে পূর্ব শর্তানুযায়ী দোকানঘর বরাদ্দ দেয়া না হলেও মানববন্ধন ও আমরণ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন বিক্ষুদ্ধ  পুরাতন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেড এর বর্তমান চেয়ারম্যান বাবু তুষার কান্তি মণ্ডল জানান, দোকানঘর বরাদ্দ পেতে তারা যে দাবি করছেন তা যৌক্তিক। তাদেরকে দোকানঘর বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে দোকানঘর বরাদ্দ দেয়া হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়