২১ ফাল্গুন, ১৪৩০ - ০৪ মার্চ, ২০২৪ - 04 March, 2024
amader protidin

গঙ্গাচড়ায় ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে ১০ সদস্যে'র অনাস্থা

আমাদের প্রতিদিন
1 year ago
418


নির্মল রায়,গঙ্গাচড়া (রংপুর):

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্নেয়া  ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, পেশি শক্তির দাপট, সরকারী জমিতে বালু উত্তোলণ, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, সরকারী গাছ কেটে বিক্রিসহ ২০টি অনিয়মের অভিযোগে ১০ জন ইউপি সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা গতকাল ৩০ জানুয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে একটি লিখিত আবেদন করেন।

১০ জন ইউপি সদস্যের স্বাক্ষরিত  লিখিত অভিযোগে জানাযায়, ইউপি চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্যদের পাত্তা না দিয়ে নিজের খেয়াল-খুশি মত ইউনিয়ন পরিষদ চালাচ্ছেন। সেই সাথে সরকারী প্রকল্পের অর্থ নয়-ছয় করে নিজের পকেট ভারী করছেন। চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে সভা করা ছাড়াই টিসিবি’র কার্ড, ভিজিএফের কার্ড বিতরণ, ৪০ দিনের কর্মসূচীতে চেয়ারম্যানের পছন্দের ইউপি সদস্যদের কাজ দেয়া, টাকার বিনিময়ে রেশন কার্ড বিক্রি, হতদরিদ্র ও বন্যায় দূর্গতদের শুকনো খাবার ও ২ টন চাল, ই.ডি.পি বরাদ্দ, ২টি নন-ওয়েজ প্রকল্পের অর্থ, এলজিএসপি’র ৩টি প্রকল্পের ৯ লাখ টাকা, কাবিখা, কাবিটা প্রকল্পের টাকা, সরকারী ১ % হারে প্রকল্পের টাকা, ইউনিয়ন পরিষদের পুরস্কারের টাকাসহ চৌকিদারের ট্যাক্সের টাকা আত্মসাত করেছেন। ৫০ হাজার টাকা মূল্যের টিআর বরাদ্দের জন্য ইউপি সদস্য প্রতি ১০ হাজার টাকা ও চৌকিদার নিয়োগে ৬ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান। ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন খাত ট্রেড লাইসেন্স, ভূমিহীন সনদ, ওয়ারিশন সনদ, জন্ম নিবন্ধন সনদ, মৃত্য সনদপত্রের টাকা নিজ কর্মী দিয়ে উত্তোলণ করে আত্মসাত, সরকারী জমিতে ড্রেজার লাগিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি, ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তার ৩০১টি সরকারী গাছ কেটে বিক্রি, সরকারী জমি দখল করে ১০ একর জমি অন্যকে লীজ প্রদান করে টাকা উত্তোলনসহ ইউপি সদস্যদের ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তোলা হয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

মর্ণেয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ তৌহিজার রহমান বলেন, জিল্লুর রহমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চালাচ্ছে। কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে কোন সভা করেন না তিনি। চেয়ারম্যান সরকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই টাকা আত্মসাত করছেন। ইউপি সদস্যরা এর প্রতিবাদ করলে তাদের নানা হুমকি ও ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমরা দূর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানের বিচার চাই।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ তামান্না বলেন, মর্নেয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১০ জন ইউপি সদস্যে'র অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়টি জেলাপ্রশাসক স্যারকে অবগত করেছি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়