২১ ফাল্গুন, ১৪৩০ - ০৪ মার্চ, ২০২৪ - 04 March, 2024
amader protidin

কুড়িগ্রামে সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ থাকছে লোকচক্ষুর অন্তরালে

আমাদের প্রতিদিন
9 months ago
291


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: 

কুড়িগ্রামে সরকারের মেগা প্রকল্পের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বেশিরভাগই থাকছে লোকচক্ষুর অন্তরালে। প্রচার প্রচারণা না থাকায় প্রকল্পে বাড়ছে অনিয়ম ও দুর্নীতি। এতে ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ হলেও বিনষ্ট হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তি। স্বচ্ছতা বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে জনসম্মুক্ষে উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা প্রকাশের দাবি সাধারণ মানুষের।

বর্তমান সরকার মিডিয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে সরব থাকলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নগুলোতে নেই প্রচার-প্রচারণা। ফলে কোথায় কাজ হচ্ছে, কি ধরণের কাজ হচ্ছে। তা জানতে পারছে না সাধারণ মানুষ। এমনকি তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়েও অফিসে অফিসে ঘুরছেন মিডিয়াকর্মীরা। ফলে সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ প্রকাশ্যে না আশায় বাড়ছে দুর্নীতি, পকেট ভারী হচ্ছে কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের।

সরজমিন ঘুরে মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্পের বদলে অফিসগুলোতে ভরে গেছে দলীয় নেতাকর্মীদের পোস্টার। এছাড়াও ছিটেফোটাভাবে রয়েছে কিছু সচেতনতামূলক পোস্টার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড। কিন্তু প্রান্তিক মানুষের জন্য যে সকল প্রকল্প রয়েছে তার কোন উল্লেখ নেই এখানে। ফলে টিআর. কাবিখা, এডিপি, এলজিএসপি, জনস্বাস্থ্য, বিএডিসি, বরেন্দ্র, সমাজসেবা, যুব উন্নয়ন, মৎস, প্রাণিসম্পদ, নারী ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, শিক্ষা বিভাগসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিবরণ ও তালিকা থাকছে লোকচক্ষুর অন্তরালে। এই ফাঁকে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও দলবাজ কিছু প্রভাবশালী নেতাকর্মী গড়ছেন সম্পদের পাহাড়। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে গোপনে কিছু প্রকল্প এনে কাজ না করে পকেট ভারী করার।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের মোতাহার, জলিল ও কুরবান আলী জানান, গত এক যুগে এই ইউনিয়নে বড় প্রকল্প থেকে কি কি কাজ করা হয়েছে তা আমাদের নজরে আসে নাই। এখন কি কাজ করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে কি কাজ করা হবে তা সাধারণ মানুষ জানতে পারে না। ইউনিয়নে শুধু বাল্যবিবাহ, মাদকদ্রব্য রোধ ও এনজিওদের কর্মকান্ডের প্রচারণা থাকলেও সরকার কি কাজ করছে তা জানা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পর্কে আঁধারেই থাকছে।

উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের শিক্ষক বাতেন মিয়া ও মোস্তাফিজার জানান, সরকারের মেয়াদকালে কি কি উন্নয়ন হচ্ছে বা আগামীতে হবে তার তালিকার সাইনবোর্ড কিংবা অনলাইনেও কোন তথ্যাদি নেই। দৃশ্যমান প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দের পরিমাণ এবং কাজের সিডিউল সম্পর্কে কিছু লেখা থাকে না। ফলে সাধারণ মানুষ কিছু বলতেও পারে না। এছাড়াও কিছু অসাধু কর্মকর্তা আর দলীয় নেতাকর্মীরা গোপনে প্রকল্প নিয়ে এসে কাগজ কলমেই বাস্তবায়ন দেখিয়ে অর্থ লোপাট করেন।

উলিপুর উপজেলার সংবাদকর্মী রোকনুজ্জামান বলেন, উলিপুরে বেশ কয়েকটি সরকারি বিভাগে তথ্য অধিকারে আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে সকলের জন্য তথ্য জানার অধিকার রয়েছে বলা হলেও বাস্তবে মাঠ পর্যায় এর কোন প্রতিফলন নেই। এতে করে প্রান্তিক পর্যায় উন্নয়ন ব্যাহত হবার পাশাপাশি লুটপাট অব্যাহত রয়েছে।

নাগেশ^রী উপজেলার সংবাদকর্মী পাভেল রহমান বলেন, অনলাইন কিংবা সাইনবোর্ড আকারে সরকারি কোন প্রকল্পের বর্ণনা দেয়া থাকে না। এ ব্যাপারে সংবাদকর্মীদের কোন তথ্য দেয়া হয় না। তথ্য চাইলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে বলেন। সেই পদ্ধতিতে গেলে সরকারি কর্মকর্তারা বলেন জেলাকে ছোট ও হেয় করছেন কেন। এই বাক্য এখন সকল সরকারি কর্মকর্তাদের মুখে মুখে। ফলে দুর্নীতি এখন এই পিছিয়ে পরা জেলায় নিরব ঘাতক হিসেবে ছড়িয়ে পরেছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, সরকারের মাঠ পর্যায় উন্নয়নের তথ্য প্রচারে আমরা কিছুটা পিছিয়ে রয়েছি। সরকারের উন্নয়ন প্রচারণা জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবার আশ্বাস দেন তিনি।

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়