১৫ ফাল্গুন, ১৪৩০ - ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ - 27 February, 2024
amader protidin

কুড়িগ্রামে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যের ইন্দারা

আমাদের প্রতিদিন
9 months ago
54


আহসান হাবীবন নীলু, কুড়িগ্রাম অফিস:

কুড়িগ্রামে প্রাচীন ঐতিহ্যের কুয়া বা ইন্দারা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।এক সময় মানুষের পানের জন্য সুপেয় পানি হিসেবে গ্রামে  একমাত্র উৎস ছিল এই কুয়া।ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামের বধুরা কলসি কাকে নিয়ে কুয়ার পানি তুলে ঘরে নিয়ে যেত ।গ্রামের মানুষ হাল গৃহস্থি,জমির কাজ শেষ করে এসে একসঙ্গে কুয়ার পানি দিয়ে গোসল করত।এখন সেই দৃশ্য আর চোখে পড়েনা।কারণ সময়ের সাথে সাথে সেই দৃশ্যপট আমাদের কাছে অতিত।প্রায় ৯০ থেকে ১শ বছর পূর্বে গ্রামে-গঞ্জে পানের সুপেয় পানি পান করার জন্য এই কুয়া তৈরি করা হয়েছিল।সংস্কারের অভাবে প্রচীন আমলের ঐতিহ্যের কুয়া বা ইন্দারাগুলো এখন বিলুপ্তির পথে।

বর্তমানে কুড়িগ্রামের পাড়া মহল্লায় এখনও কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে ঐতিহ্যের কুয়া বা ইন্দারা । আঞ্চলিক ভাষায় এই কুয়াকে বলা হয় ইন্দারা। এর প্রকৃত নাম হলো ইন্দ্রাগার।সংস্কৃত শব্দটি ইন্দ্র ও আগার থেকে এসেছে।ইন্দ্র অর্থ বৃহৎ আগার অর্থ কূপ, অর্থাৎ ইন্দ্রাগার শব্দের অর্থ হলো বৃহৎ কূপ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে এসব ঐতিহ্যের কুয়া  বা ইন্দারা। পর্যায়ক্রমে মানুষ শিক্ষিত ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগে নলকুপ বা মেশিন বসিয়ে মাটির গভীর থেকে পানি উত্তোলন করে এখন চাহিদা মেটাচ্ছে।

সম্প্রতি পৌর এলাকা ঘুরে কয়েকটি ইন্দারার সন্ধান পাওযা গেছে, কুড়িগ্রাম পৌরসভার হোসেন খাঁ পাড়া ফকরিয়া মসজিদ সংলগ্ন ১টি,মাঝি পাড়ায় ২টি, খান পাড়ায় ১টি ,হরিকেশ কানি পাড়ায় ১টি,হরিকেশ মধ্যপাড়ায় ২টি,সবুজ পাড়ায় ১টি, জাহাজ ঘর মোড় এলাকায় ১টি ও পুরাতন রেল ষ্টেশনের পূর্বদিকে ১টি চোখে পড়ে। এরমধ্যে শুধু সবুজ পাড়া এলাকার কুয়াটি ভালো আছে এবং এখনও পানি খাওয়া সহ বাড়ির সকল কাজে ব্যবহার হচ্ছে।

গুয়াতি পাড়ার প্রবীণ মোঃ আব্দুস সামাদ জানান,হোসেন খাঁ পাড়ার এই ইন্দ্রারাটির বয়স প্রায় ১০০ বছর। ইন্দারাটি ১৯২৪ সালে নির্মাণ করা হয়েছে।সংস্কারের অভাবে এটি নষ্ট হয়েছে।আগে এই ইন্দারার পানি গ্রামের সবাই ব্যবহার করত।এরকম অনেক ইন্দারা কুড়িগ্রামে অনেক জায়গায় নষ্ট হয়ে মাটির সাথে বিলীন হয়েছে ।

পুরাতন পোষ্ট অফিস পাড়ার সুলতান আহমেদ বলেন,জাহাজঘর মোড়ের ইন্দারাটি অনেক পুরাতন। বর্তমানে কুয়াটি উপরিভাগ ভালো আছে।ভিতরটা একটু সংস্কার করলেই পুনরায় ব্যবহার করা যাবে। তাছাড়া এটা বাজার এলাকা, এখানে কোন পুকুর নাই। এই কুয়ায় পানি থাকলে মানুষের ব্যবহারের পাশাপাশি যেকোন দুর্ঘটনা জনিত আগুন নেভানো কাজে ফায়ার সার্ভিস ব্যবহার করতে পারবে।

 

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়