১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ - ২৬ মে, ২০২৪ - 26 May, 2024
amader protidin

গঙ্গাচড়ায় বেড়েছে লাম্পি স্কিন রোগের প্রকোপঃ আতঙ্কে খামারিরা

আমাদের প্রতিদিন
8 months ago
129


নির্মল রায়,গঙ্গাচড়া (রংপুর):

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বেড়েছে লাম্পি স্কিন রোগের প্রকোপ। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে গরু। এতে চরম আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। খামারিদের অভিযোগ, এ ব্যাপারে  রোগ প্রতিরোধ কার্যকর পরামর্শ দিচ্ছে না উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। এমনকি রোগ প্রতিরোধে কোনো সচেতনতামূলক প্রচারণাও করা হয়নি। খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাম্পি স্কিন ভাইরাসজনিত রোগ। প্রথমে গরুর চামড়ার ওপরে টিউমার জাতীয় উপসর্গ ও বসন্তের মতো গুটি গুটি উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর দু-একদিনের মধ্যেই গরুর শরীর জুড়েই গুটি গুটি হয়ে ঘা-এ পরিণত হচ্ছে। এ সময় গরুর শরীরে ১০৪-১০৬ ডিগ্রি তাপমাত্রার জ্বর দেখা দেয় এবং খাওয়া ছেড়ে দেয়। অনেক সময় গরুর বুকের নিচে পানি জমে ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে এবং ক্ষতস্থান পচন ধরে। এ রোগে আক্রান্ত হলে পশু দুর্বল হয়ে ওজন কমে যায়, দুধ উৎপাদন হ্রাস পায়। উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বাবু পাড়া গ্রামের ফটিক চন্দ্র বর্মন বলেন,  তার দুই মাসের বাছুরের কিছুদিন আগে শরীরে কয়েকটি গুটি (ফোলা) দেখা যায়। এরপর গ্রাম্য চিকিৎসকে দেখানোর পর কিছু ইনজেকশনসহ ওষুধ দেয়। কিন্তু কোনো কাজে আসেনি। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পশু হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েও বাছুরটি মারা যায়।  তিনি আরও বলেন, এ রোগ প্রতিরোধে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ কোনো সচেতনতামূলক প্রচারণা করেনি। আমাদের যদি আগেই সচেতন করতো তাহলে হয়তো বাছুর টিকে বাঁচানো যেতো। একই গ্রামের হতদরিদ্র কান্তেশ্বর বর্মন বলেন , এ অজানা রোগে বৃহস্পতিবার ৩১ (আগস্ট) আমার ৬ মাস বয়সী বাছুরটি মারা গেল। চিকিৎসায় অনেক টাকাও খরচ করলাম কিন্তু কোনো কাজ হলো না। একই গ্রামের বিরেন চন্দ্র বর্মন বলেন, দুই সপ্তাহ আগে আমার একটি গাভী আক্রান্ত হয়। চিকিৎসা করেও বাঁচাতে পারিনি। এ বিষয়ে উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ইউসুফ আলী সরকার বলেন, এ রোগে আক্রান্ত হলে অনেকেই স্থানীয়ভাবে গরুর চিকিৎসা নিচ্ছে। তবে সুস্থ না হওয়ায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে নিয়ে আসছে। চিকিৎসা নিয়ে আক্রান্ত গরুগুলো সুস্থ হচ্ছে। যারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে সেসব হয়তো মারাও যাচ্ছে। যা আমাদের জানা নেই। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগের তুলনায় আক্রান্তের হার কমেছে। বর্তমানে ছোট বাছুর দুই একটা আক্রান্ত হচ্ছে।সচেতনতামূলক প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় আড়াইশ পল্লী চিকিৎসককে এ রোগ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়