১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ - ২৮ মে, ২০২৪ - 28 May, 2024
amader protidin

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেগুলোতে পানি উঠছে দুই উপজেলায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

আমাদের প্রতিদিন
8 months ago
286


রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ী ঢলে কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৫৬টি মৌজার ৩’শটি গ্রামের মধ্যে ২৫টি গ্রামের ৩০হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। অপর দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেই পানি উঠছে। বন্যার পানি বৃদ্ধিতে দূর্গম চরের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত হচ্ছে।

পাশাপাশি কৃষকের বীজতলা, শাকসবজি ও রোপাআমন ধানসহ নানান প্রকার ফসল তলিয়ে গেছে। চরাঞ্চল ও নি¤œাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় গো-খাদ্যর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

শনিবার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পানিবন্দি হয়েছে রৌমারী উপজেলার ফলুয়ারচর, পালেরচর, গোয়ালেরচর, ঠাকুরেরচর, বাইশপাড়া, কান্দাপাড়া, সুখেরবাতি, খেরুয়ারচর, পাখিউড়া, ধনারচর চরের গ্রাম, গুচ্ছগ্রাম, মসালেরচর, চরকাজাইকাটা ও চররাজিবপুর উপজেলার চরসাজাই, ডাটিয়ারচর, কোদালকাটি, শংকর মাধবপুর, কোদালকাটি, বড়চর, নাওশালা, জালছিড়া, সাজাই মন্ডলপাড়াসহ ২৫টি গ্রাম।

বন্যার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদী উপচে গিয়ে ওইসব এলাকা প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার পরিবার। ইতোমধ্যে ওইসব এলাকার রাস্তা তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা বা ভেলা দিয়ে পারাপার হচ্ছে। অনেক বাড়ির উঠানে পানি উঠায় রান্না করতে পারছেনা তারা। স্ত্রী সন্তান নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন পরিবারগুলো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রৌমারীর ধনারচর সিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ও ক্লাস কক্ষতে পানি উঠেছে। এদিকে ফলুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পানি উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারছেনা।

ফলুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর বলেন, বন্যার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় স্কুল মাঠে পানি উঠেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা যাওয়া করছে।

বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সরকার বলেন, বন্যার পানিতে ইউনিয়নের পশ্চিম দিকে বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি উঠেছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি থাকলে বেঁরিবাধ ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। কয়েকটি পরিবারকে কিছু শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে। 

রৌমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুরমোহাম্মদ জানান, ধনারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে বলে তথ্য পেয়েছি। তাই উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পানি বৃদ্ধি থাকলে আরও কয়েক প্রতিষ্ঠানে পানি উঠার আশংকা রয়েছে।

চর রাজিবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফ উজ জামান সরকার জানান, এখন পর্যন্ত এ উপজেলা কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠেনি। তবে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেলে বিদ্যালয়গুলোতে পানি উঠবে। তারপরও খোঁজখবর নিচ্ছি।

কোদালকাটি গ্রামের শাহিদুল ইসলাম বলেন, নদীর পানির ¯্রােতে আমার বসতবাড়ি ভেঙ্গে গেছে। অন্যের একটু জায়গায় ছাপড়া তোলে বসবাস করছি। আমরা কোন ত্রাণ পাইনি। চরসাজাই গ্রামের রফিকুল ইসলাম দৈনিক বলেন, বাড়িতে পানি উঠেছে। শিশুদের নিয়ে চরম বিপাকে আছি।

চর রাজিবপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার তানভীর আহমেদ বলেন, নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নীচে রয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত  মানুষের জানমালের উপর তেমন কনো প্রভাব পড়েনি। তবে নদ-নদীতে পানি এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় আক্রান্ত রোপা আমন ধান ৭৮০ হেক্টর, শাকসবজি ৪৬ হেক্টর ও বীজতলা ৮ হেক্টর তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি হতে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পাড়ে।

রৌমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেশকাতুর রহমান বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় চাল ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এরকম থাকলে শুকনা খাবার বিতরণ চলমান থাকবে।

রৌমারী উপজেলার নির্বাহী অফিসার নাহিদ হাসান খান জানান, ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় চাল ও শুকনা খাবার পৌঁছানো হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণসহ সেগুলো তালিকাভুক্ত করে বিতরণ করছে।

  

সর্বশেষ

জনপ্রিয়