৪ আষাঢ়, ১৪৩১ - ১৮ জুন, ২০২৪ - 18 June, 2024
amader protidin

মিঠাপুকুরে মহাসড়কের জায়গা বে-দখল করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চাঁদতারা ও পাঠাগার ক্লাব’ ঘর নির্মাণ

আমাদের প্রতিদিন
9 months ago
375


কেটে ফেলা হয়েছে রাস্তার একাধীক গাছ

তাহাম্মেল হোসেন সবুজ, মিঠাপুকুর:

মিঠাপুকুরে আ লিক মহাসড়কের জায়গা বে-দখল করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চাঁদতারা ও পাঠাগার ক্লাব’ এর ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সপ্তাহখানেক আগে উপজেলার চেংমারী ইউনিয়নের কিশামত হাড়ড়পাড়া এলাকায় মহাসড়কের ধারে এটি স্থাপিত হয়েছে। সংগঠনটির ঘর নির্মাণের জন্য কেটে ফেলা হয়েছে সরকারী বেশ কয়েকটি গাছ। ব্যস্তমত এই আ লিক মহাসড়কের ধারে প্রকাশ্যে ঘর তুললেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘কিশামত হাড়ড়পাড়া চাঁদতারা পাঠাগার ও ক্লাব’ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সমাজসেবা কার্যলয় হতে নিবন্ধনকৃত। দির্ঘদিন বন্ধ ছিল এর কার্যক্রম। হঠাৎ কিশামত হাড়ড়পাড়া গ্রামের আলামিন মিয়া নামে একজন নিজেকে সভাপতি দাবি করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চাঁদ তারা ও পাঠাগার ক্লাব’ নামে সংগঠনটি পুনরায় চালু করেন। সেখানে তিনি সংগঠনটির নামের ক্ষেত্রে ‘কিশামত হাড়ড়পাড়া’ বাদ দিয়ে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ সংযুক্ত করেছেন। এরফলে সংগঠনটির মুল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বদল হয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হয়ে ওঠেছে। সংগঠনটির কোন ঘর না থাকায় মিঠাপুকুর-ফুলবাড়ী আ লিক মহাসড়কের ধারে বে-দখলকৃত জায়গায় ক্লাবটি নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সংযুক্ত থাকায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি বলে কয়েকজন স্থানীয় জানিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মিঠাপুকুর-ফুলবাড়ী আ লিক মহাসড়কের উত্তরে হাড়ড়পাড়া এলাকায় একটি মুরগী খামার ঘেসে ক্লাবঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। বাঁশ-কাঠ ও টিন দিয়ে নির্মিত ঘরটিতে দুটি কক্ষ রয়েছে। সপ্তাহখানেক ধরে বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে চলেছে মহাসড়কের জায়গা বে-দখল ও নির্মাণ কর্মযজ্ঞ। ক্লাব ঘরটির সামনে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে ‘বঙ্গবন্ধুর গঠিত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২য় তম শক্তি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চাঁদ তারা ও পাঠাগার ক্লাব।’ সেখানে সভাপতি দাবিদার আলামিন মিয়ার একটি ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে।

এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, ক্লাবঘরটি যেখানে স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে বেশ কয়েকটি গাছ ছিল। সেগুলো কেটে সাবাড় করেছে ওই ক্লাবের সভাপতি আলামিন মিয়া ও সদস্যরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, মুলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও অপরাধমুলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে ক্লাবটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে তারা রাস্তার গাছ কেটে, জায়গা জায়গা বে-দখল করেছে। ধিরে ধিরে তাদের অপরাধের পরিধি বৃদ্ধি পাবে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, সমাজসেবা কার্যলয় হতে বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। নাম পরিবর্তন করে সমাজে অপরাধ মুলক কর্মকান্ড পরিচালনা করলে সেটির দায়ভার তাদেরকেই নিতে হবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চাঁদতারা ও পাঠাগার ক্লাব সংগঠনটির সভাপতি দাবিদার আলামিন মিয়া বলেন, দির্ঘদিন ধরে ক্লাবটি নানা কর্মকান্ড পরিচালনা করেছে। বর্তমানে প্রচারের জন্য মহাসড়কের পাশে ক্লাবঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। সংগঠনটির নাম নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি এই নামেই জানতাম, তাই এই নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ক্লাবঘরটি নির্মাণের ক্ষেত্রে মহাসড়কের বেশ কয়েকটি সরকারী গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, জায়গা বে-দখল করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে আলামিন মিয়া বলেন, কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছিল। সেগুলো উপকারভোগী সদস্যদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্লাবঘরটি কিছুটা মহাসড়কের জায়গায় নির্মিত হয়েছে। সময় হলে সেটি ছেড়ে দেওয়া হবে।

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়