৯ আষাঢ়, ১৪৩১ - ২৩ জুন, ২০২৪ - 23 June, 2024
amader protidin

গোবিন্দগঞ্জে প্রভাবশালীর হুমকী-ধামকীতে ক্রয় করা জমি নিয়ে বিপাকে জমির মালিক

আমাদের প্রতিদিন
9 months ago
156


গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে প্রভাবশালীর নানা ধরণের হুমকী-ধামকীতে ক্রয় করা জমি নিয়ে বিপাকে পরেছে নীরিহ জমির মালিক। ইউনিয়ন পরিষদ ও আদালতের রায় পেয়েও প্রকৃত মালিক  নানা ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে আদালত অবমাননা করে  বার বার জমি দখলের চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কাটাবাড়ী ইউনিয়নের ২নং কাটাবাড়ী গ্রামের বুলবুল আহমেদের স্ত্রী নাছিমা আখতার জানান  ২০০৭ সালের  নভেম্বর মাসের ৪ তারিখে বাগদা বাজারে বিশ^রোড সংলগ্ন  ২টি পাকা ও একটি টিনশেড ঘর সহ ৮ শতক জায়গা ক্রয় করেন। ক্রয় করা স্থানে তার ছেলে রাকিব দীর্ঘদিন ধরে ঔষধের দোকান করে আসছে। হঠাৎ করে  একই  এলাকার মৃত আরমান আলী ব্যাপারীর পুত্র একাব্বর আলী  তার ভাই-ভতিজাদের নিয়ে ওই জমিতে গাছ লাগিয়ে জোড় পূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়। এ ব্যাপারে তাদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা লাঠি-শোঠাসহ আমার ছেলেকে ধাওয়া করে। ততকালিন ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিমকে অভিযোগ দিলে তিনি বিষয়টি আমলে নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে অবৈধভাবে লাগানো গাছ তুলে ফেলে দখলমুক্ত করেন। পরে তারা আবারো দখলের চেষ্ঠা করলে বাধ্য হয়ে সুষ্ঠু বিচারের আশায় বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ প্রদান করি। কাগজপত্র পর্যলোচনা করে বর্তমান  ইউনিয়ন পরিষদও আমার পক্ষে রায় ঘোষণা করেন এবং অধিকতর বিচারের জন্য আদালতে মামলা করার পরামর্শ প্রদান করলে আদাতে  মামলা দায়ের করি। যার নম্বর  পিটিশন ৩৯৮/২২।বিজ্ঞ বিচারক সাক্ষী প্রমাণ শেষে ২৩ সালের ১২ মার্চ আমার পক্ষে রায় প্রদান করেন।কিন্ত আসামী একাব্বর আলী মামলার রায় না মেনে আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করেন এবং আদালতের রায় পাওয়ার আগেই আদালত অবমাননার করে গত ৫ আগষ্ট গভীর রাতে একাব্বর আলী তার ভাই-ভাতিজা ও অন্যান্য লোকজন সহ ওই জমির ফাঁকা জায়গায় আবারো গাছ রোপন করেন।

এরপর গত ২৫ আগস্ট এব্যাপারে থানায়  একটি অভিযোগ দায়ের করি। এরপ্রেক্ষিতে যেহেতু আদালতে  মামলা চলামান রয়েছে সেহেতু পুলিশ গাছ তুলে ফেলে জায়গাটি ফাঁকা করে দেয়। পুলিশকে তদন্তের আমাদের জমির কাগজ দেখালেও তারা কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।  পুলিশ তাদেরকে কাগজপত্র নিয়ে ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে নির্দ্ধারিত দিনে থানায় আসতে বলে। কিন্ত একাব্বর আলী থানায় না গিয়ে আবারো জায়গাটি দখলের উদ্যেশ্যে নানা ধরণের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

গোবিন্দগঞ্জের কাটাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জোবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপ বলেন, দলিল ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে পরিষদ নাছিমা আকতারের পক্ষে  রায় প্রদান করে। তবে যেহেতু আদালতে মামলা চলমান রয়েছে সেহেতু আদালতের রায়ই চূড়ান্ত।

গোবিন্দগঞ্জ থানার এস আই আনিমেষ  উভয়পক্ষকে  জমির পক্ষে কাগজ পত্র সহ গত ১ সেপ্টেম্বর  থানায় আসার জন্য বলা হলেও অভিযুক্ত একাব্বর  আলী থানায় আসতে চেয়েও আর আসেনি। এমনকি কয়েকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এতে করে মনে হচ্ছে তার দাবীর স্বপক্ষে তার কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে। এরপর আবারো অবৈধভাবে জমি দখল অথবা বাদীকে হুমকী-ধামকী প্রদান করেন তাহলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়