৪ আষাঢ়, ১৪৩১ - ১৮ জুন, ২০২৪ - 18 June, 2024
amader protidin

দিনাজপুরে পানিবন্দী কয়েক হাজার মানুষ

আমাদের প্রতিদিন
8 months ago
205


দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরে কয়েকদিন থেকে বৃষ্টিপাত হলেও গত দু’দিনের বিরামহীন ভারী বর্ষনে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। পানি বন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে এসব পরিবারের বাড়ী-ঘর। অব্যাহত বর্ষনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভারী বর্ষন আর উজানের ঢলে দিনাজপুরের সবক’টি নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করেছে। দেখা দিয়েছে বন্যার আশংকা।

দেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুরে গত এক সপ্তাহ ধরেই চলছে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত। এর মধ্যে গত শনিবার থেকে শুরু হয় অবিরাম বর্ষন। দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও আবহাওয়া অফিসের রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় দিনাজপুরে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৭০ মিলিমিটার। এর মধ্যে রোববার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় এটিই এই মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

দু’দিনের অব্যাহত এই ভারী বর্ষনে দিনাজপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে নি¤œাঞ্চলের বাড়ীঘর। অনেকের ঘরের আসবাবপত্র ও বাড়ীর সরঞ্জামাদি পানিতে তলিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে দিনাজপুর জেলার কয়েক হাজার পরিবার। অনেকের বাড়ীতে থাকার মতো অবস্থা না থাকায় আশ্রয় নিয়েছে উুঁচু স্থানে।

দিনাজপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের হীরাহার এলাকা ও শান্তিনগর এলাকায় গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় গিয়ে দেখা যায়, ওই এলাকার অন্তত ৪’শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেকের বাড়ী-ঘরের ভেতর কোমর পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

খবর পেয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক শাকিল আহম্মেদ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা রোববার দুপুরে দিনাজপুর পৌরসভার হীরাহার এলাকায় গিয়ে পানিবন্দী মানুষের মধ্যে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেন। এসময় জেলা প্রশাসক জানান, ইতিমধ্যে আশেপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এসব পরিবারকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হবে।

শুধু হীরাহার বা শান্তিনগর এলাকার এই অবস্থায় নয়, দিনাজপুর পৌরসভার অনেক স্থানেই নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বাড়ীঘর। দিনাজপুর পৌর এলাকার বালুয়াডাঙ্গা, বালুবাড়ী, উপশহরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। দিনাজপুর পৌরসভা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে দিনাজপুর-বিরল সড়কের ঢেলপীড় নামক স্থানে সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিনাজপুরের সাথে বিরল উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এছাড়াও ভারী বর্ষনে বিভিন্ন এলাকার আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পুকুর প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

ভারী বর্ষন আর উজানের ঢলে দিনাজপুরের সবক’টি নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করেছে। বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে জেলার অধিকাংশ নদীর পানি।

দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা মোঃ জুয়েল রানা জানান, একদিনের ব্যবধানে জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি ৪ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। যেভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, তাতে আগামীকাল (সোমবার) নদীগুলো বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানান তিনি।

জুয়েল রানা জানান, পুনর্ভবা নদীর বিপদ সীমা ৩৩ দশমিক ০৫ মিটার, রোববার দুপুরে প্রবাহিত হয় ৩২ দশমিক ৩৯ মিটার দিয়ে। আত্রাই নদীর বিপদসীমা ৩৯ দশমিক ১৫ মিটার, প্রবাহিত হচ্ছে ৩৭ দশমিক ৮২ মিটার দিয়ে। ছোট যমুনা নদীর বিপদসীমা ২৯ দশমিক ৫০ মিটার, রোববার দুপুরে এই নদী প্রবাহিত হয় ২৮ দশমিক ৮৬ মিটার দিয়ে।

এদিকে অব্যাহত ভারী বর্ষনে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাড়ী থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। ফলে দিনাজপুর শহরের রাস্তাগুলো একপ্রকার জনশুন্য হয়ে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে নি¤œ আয়ের দিনে এনে দিনে খাওয়া শ্রমজীবি মানুষ।

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়