১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ - ২৫ মে, ২০২৪ - 25 May, 2024
amader protidin

দিনাজপুরে বেড়েছে চালের দাম: বিপাকে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ

আমাদের প্রতিদিন
1 month ago
54


প্রতিকেজি চালের দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

চালের দাম আর বাড়ানো হবে না, ধানের জেলা দিনাজপুরের চালকল মালিকরা খাদ্যমন্ত্রীকে এমন প্রতিশ্রম্নতি দেয়ার পরও বেড়েছে চালের দাম। মাহে রমজানের মাসেই কয়েকদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরে কেজিতে চালের দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত। চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। তবে মিল মালিকরা বলছেন, হাট—বাজারে ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেড়েছে চালের দাম।

দেশের সিংহভাগ চাল উৎপাদনের জেলা দিনাজপুর। গত ফেব্রুয়ারী মাসে চালের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়ায় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার দিনাজপুরে এসে সভা করেন চালকল মালিকদের সাথে। মিল মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান—চালের দাম কমিয়ে আনার। সেসময় চালকল মালিকরা খাদ্যমন্ত্রীকে প্রতিশ্রম্নতি দেন—দিনাজপুরে রমজান পর্যন্ত চালের দাম আর বাড়বে না। কিন্তু রমজান শুরুর পরপরই দিনাজপুরে বেড়েছে চালের দাম। মুলত পাইকারী বাজারে মোটা, মাঝারী ও চিকন চালের প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় দাম বেড়েছে দেড়’শ থেকে দুই’শ টাকা। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। খুচরা বাজারে ৫০ কেজির বস্তায় বেড়েছে আড়াই’শ টাকা পর্যন্ত।

রোববার দিনাজপুর শহরের প্রধান চালের বাজার বাহাদুরবাজারে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বাজারে মোটা স্বর্না জাতের চাল প্রকারভেদে প্রতি কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে ৪৭ থেকে ৫০ টাকা, বিআর—২৮ জাতের চাল প্রতিকেজি ৫ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা ও মিনিকেট চাল ৩ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে  প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৬ থেকে ৬৮ টাকা দরে। চালের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

বাহাদুরবাজারের চাল বিক্রেতা লিয়াকত আলী জানালেন, মিল গেটেই প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় চালের দাম বেড়েছে দেড় থেকে দুইশো টাকা পর্যন্ত। তাই প্রভাব পড়েছে খুচরা ও পাইকারী বাজারে। মোটা চাল তুলনামূলক দাম বেশি বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। দাম বাড়লেও চালের বেচা বিক্রি কম বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

দিনাজপুর শিল্প ও বনিক সমিতির সভাপতি চালকল মালিক রেজা হুমায়ুন ফারুক চৌধুরী শামীম বলেন, বাজার বা হাটে প্রয়োজনের তুলনায় ৫০ শতাংশ ধান সরবরাহ কমে গেছে। যে কারনে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে ধানের দাম। পাশাপাশি মিলগুলোতে চাল উৎপাদন কম হওয়ায় এটির দাম বেড়েছে। তবে নতুন ধান না উঠা পর্যন্ত চালের দাম কমবেনা বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের প্রচুর পরিমান চাল মজুদ রয়েছে। তাই চালের বাজার নিয়ন্ত্রনে খোলাবাজারে চাল বিক্রিসহ সরকারী বিভিন্ন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী চালু রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন চালকল মালিক রেজা হুমায়ুন ফারুক চৌধুরী শামীম।

এদিকে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

উল্লেখ্য, দিনাজপুর জেলায় প্রতিবছর প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয় এবং এই অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে ৯ লাখ মেট্রিক টন চাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

 

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়