৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ - ১৮ মে, ২০২৪ - 18 May, 2024
amader protidin

অর্থের অভাবে হচ্ছে না মেধাবী আরিফের চিকিৎসা, ভ্যানচালক বাবা-মার কান্না

আমাদের প্রতিদিন
3 weeks ago
59


পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:

আরিফ মিয়া গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে ভর্তি হয়েছেন পীরগাছা সরকারি কলেজে। স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হবেন। ভ্যান চালক বাবা-মায়ের কষ্ট দূর করবেন। বাবা তোফাজ্জল হোসেন সন্তানের মেধা দেখে শত কষ্টের মাঝেও তার লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনিও স্বপ্ন দেখেছিলেন লেখাপড়া করে সন্তান বড় ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করবেন। শেষ বয়সে তাকে আর ভ্যান চালাতে হবেনা। বাপ-ছেলে স্বপ্ন এখন বুকে চাঁপা কষ্ট আর কান্নার। হঠাৎ করে মেধাবী সন্তান আরিফের মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় খবরে মুষড়ে পড়ে পরিবারটি। স্বপ্ন এখন দু:স্বপ্নে পরিনত হয়েছে। বাড়িতে চলছে কান্নার রোল আর একমাত্র ছেলে সন্তানের চিকিৎসার নিয়ে অসহায় পিতার ছোটাছুটি।

মেধাবী আরিফ হোসেনের বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামে। পিতা তোফাজ্ঝল হোসেন ভ্যানে করে ঘাস বিক্রি করেন। অভাবে সংসারে তোফাজ্জল হোসেন ও আর্জিনা বেগম এখন দিশেহারা। একমাত্র ছেলের চিকিৎসায় ভেঙ্গে পড়ছেন পরিবারটি। চিকিৎসক বলেছেন, তার সুচিকিৎসার জন্য প্রায় ৩০-৪০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এনজিও থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ তুলে ও গ্রামবাসীর সহযোগিতায় চিকিৎসা করালেও বর্তমানে সমিতির কিস্তির টাকা ও ছেলের দৈনন্দিন ওষুধপত্রের খরচ জোগাতেই দিশেহারা বাবা-মা।

আরিফ মিয়া বলেন, গত ৮ মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হই। সেখানে কিছু টেস্ট করার পর জানান আমার থ্যালাসেমিয়া হয়েছে। কিছুদিন চিকিৎসা চলার পর যখন দেখা গেল, শরীরে রক্ত আটকেনা তখন চিকিৎসক আমাকে বললেন ঢাকায় গিয়ে টেস্ট করাতে। পরে ঢাকায় গিয়ে টেস্ট করানোর পর আমার শরীরে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরে। আমি বাবা-মার স্বপ্ন পূরণ করতে পারলাম না। আমার ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া করে ডাক্তার হয়ে বাবার কষ্ট দূর করবো। কিন্তু আমার সেই স্বপ্ন মনে হয় আর পূরণ হবেনা। এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে কেউ চলে যেতে চায়না। আমিও চাই না এত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে চলে যেতে। আমি বাঁচতে চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, আরিফরা দুই ভাই-বোন খুব মেধাবী। তার বাবা-মা অনেক কষ্ট করেছে। এক রোগেই একটি পরিবার তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ওর বাবা-মা সব সময় কান্না করেন। ছেলেটার এই অবস্থায় সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে হয়তো ছেলেটিকে বাঁচানো যেতে পারে।

আরিফের মা আর্জিনা বেগম বলেন, আরিফের বাবা ভ্যান চালায়। আমি মানুষের বাসায় কাজ করি। ৫ লাখ ঋণ করে ছেলের পেছনে শেষ করেছি। এখন টাকার অভাবে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে যেতে পারছিনা। সমিতির ঋণের কিস্তির জন্য চাঁপ দেয়া হচ্ছে।

আরিফের বাবা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমি ভ্যান চালিয়ে ছেলেটাকে লেখাপড়া করাচ্ছি।  স্বপ্ন ছিল ও একদিন ডাক্তার হবে। বৃদ্ধ বয়সে আমাকে আর ভ্যান চালাতে হবেনা। আল্লাহ আমার সেই স্বপ্নটাকে নষ্ট করে দিল। আমি দেশবাসীর কাছে আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য সহায়তা কামনা করছি।

আরিফের স্কুলশিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, আরিফ প্রচন্ড মেধাবী ছাত্র ছিল। হঠাৎ করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় তার ভ্যানচালক বাবার পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো সম্ভব না। তার চিকিৎসায় দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়