১ আষাঢ়, ১৪৩১ - ১৫ জুন, ২০২৪ - 15 June, 2024
amader protidin

কাউনিয়ায় তিস্তার শাখা নদীতে আজব পাকা সেতু, উঠতে লাগে বাঁশের সাঁকো

আমাদের প্রতিদিন
2 weeks ago
68


কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তর শাখা মানাস নদীর ওপর পাকা সেতু নির্মাণ হয় দশ বছর আগে। বন্যায় সেতুটি হেলে পড়ে এবং দু্ইপাড়ের এ্যাপোচ সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায়, কাজে আসছে না সেতুটি।

স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ সেতুর ওপর অস্থায়ীভাবে কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। এতে তাঁদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হয়েছে। দ্রুত সেখানে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে প্রায় ৬০ মিটার প্রস্থ তিস্তার শাখা নদী বয়ে গেছে। পাকা সেতুর অভাবে নদীর দুইপাড়ের আরাজি হরিশ্বর, বুদ্ধিরবাজার, গোপিডাঙ্গাচর এবং লালমনিরহাট সদরের চররাজপুর চরপাগলারহাট, চর চাংড়া, চরখলাইঘাট সহ ১০ গ্রামের মানুষ পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এ অবস্থায় উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০১৪ সালে সরকার ও ইউএসএআইডি সংস্থার অর্থায়নে তিস্তার শাখা মানস নদীর ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ১৮৩ টাকা ব্যয়ে ১৭ মিটার দৈর্ঘ্য একটি বক্স সেতু নির্মাণ করে। সেতু নির্মাণ হলে স্থানীয়রা অনেক আনন্দিত হয়। কিন্তু ২০১৭ সালে বন্যায় সেতুটি হেলে পড়ে এবং দু্ইপাড়ের এ্যাপোচ সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় দশ গ্রামের হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। স্থানীয় লোকজন  ক্ষতিগ্রস্থ সেতুর দুইপাড়ে অস্থায়ীভাবে সাঁকো নির্মাণ করে। এতে তাঁদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হলেও গ্রামগুলোর কৃষক, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। পাকা সেতুর সুফল পাচ্ছে না গ্রামের মানুষেরা।

গত শুক্রবার মৌলভি বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, হেলে যাওয়া সেতুর দুইপাড়ে কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। দুইপাড়ের মানুষেরা নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই হেঁটে পাড় হচ্ছেন।

গোপীডাঙ্গা গ্রামের কৃষক সামছুল ইসলাম (৬৫) সহ অনেকে বলেন, তিস্তার মানস নদী পার হওয়ার জন্য দশ গ্রামের মানুষের চাওয়া ছিল একটি পাকা সেতু। নির্মাণও হয় সেতু। কিন্তু সাত বছর আগে বন্যায় সংযোগ সড়কটি ভেঙ্গে মানস নদীতে তলিয়ে যায়। সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় সেতুটি তাঁদের কাজে আসে না।

গোপিডাঙ্গা গ্রামের আমিন আলী, দেলওয়ার সহ অনেকে অভিযোগের সুরে বলেন, দশ গ্রামের বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীকে যোগাযোগের উন্নয়নের ছোয়া লাগাতে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের উদাসিনতায় নদীর প্রস্থ্যতের চেয়ে ছোট্ট আজব সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুতে উঠতে ব্যবহার করতে হচ্ছে কাঠের সাঁকো।

আরাজি হরিশ^র গ্রামের কৃষক আব্দুল গফুর বলেন, নদীর দুইপাড়ের গ্রামগুলোতে ধান, আলু, ভু্ট্টাসহ সারা বছর সবজি উৎপাদিত হয়। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল উপজেলার তকিপল হাট হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। সেতুর অভাবে এলাকার উৎপাদিত কৃষক পন্য আমরা বাজারে নিয়ে যেতে পারি না। অনেক দূর ঘুরে আমাদের হাট—বাজারে যেতে হয়। সেতুটি চলাচলের উপযোগী হলে কৃষকেরা লাভবান হতেন।

বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছাড় আলী বলেন, এ নদীতে গার্ডারযুক্ত সেতু নির্মান করা দরকার ছিল। কিন্ত তৎকালিন সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের উদাসিনতায় আরসিসি ছোট বক্স কালভাট নির্মান করায় বন্যার সময় স্রোত ও কচুরি পানায় পানির প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় সেতুটির দুইপাশে^র্র এ্যাপ্রোচ সড়ক ভেঙ্গে নদীতে তলিয়ে যায়। সেতুটিও একদিকে হেলে দেবে গেছে। লোকজন দুইপাড়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে সেতুর ওপর  পারাপার হতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জাম জেমি বলেন, তিস্তার শাখা মানস নদীর প্রস্থ অনুযায়ী সেতুটি অন্তত ৪০ মিটার দের্ঘ্য নির্মাণ করা দরকার ছিল। তাহলে বন্যার সময় সেতু ও এপ্রোক্স সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হতো না। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ সেতুটি ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা ঢাকা অফিসে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন এবং বরাদ্দ পেলে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে সেতু ও এপ্রোক্স সড়ক নির্মাণ করা হবে।

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়