১ আষাঢ়, ১৪৩১ - ১৫ জুন, ২০২৪ - 15 June, 2024
amader protidin

অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে গো-খাদ্যের দাম: বিপাকে রংপুরের খামারিরা

আমাদের প্রতিদিন
1 week ago
49


নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুর নগরীসহ বিভাগের আট জেলায় গো—খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছেই তো বাড়ছে। এতে খামারি ও গৃহস্থরা চরম বিপাকে পড়েছেন। গো—খাদ্য সংকটে অনেকে গরুর খাবারের পরিমাণও কমিয়ে দিয়েছেন। এতে দুধের উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে তবে প্রান্তিক খামারি ও গৃহস্থরা নিজেরাই গাভির পরিচর্যা করে কোনো রকমে টিকে থাকলেও বেশি সমস্যায় পড়েছেন বড় খামারিরা। অনেকে আবার পেশাও বদল করেছেন। এতে কমছে খামারি’র সংখ্যাও। এমন পরিস্থিতে গো—খাদ্যের দাম না কমলে ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

তবে রংপুরের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলছেন, দুধ উৎপাদন ও গাভির সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে প্রান্তিক ও মাঝারি খামারিদের সংখ্যাও।

এদিকে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে যারা গরু পালন করছেন তারা সবচেয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন। গরুকে তারা ঠিকমতো খাদ্য দিতে পারছেন না।  নগরীর তামপাট এলাকার নুরুল ইসলাম, শাহ আলম এবং কেরানীরহাট এলাকার সাইফুল ইসলাম জানান, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে সংসার চালাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। এর ওপর গো—খাদ্যের দাম আস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় তারা গরুকে ঠিকমতো খাবার দিতে পারছেন না।

রংপুর জেলা ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানাগেছে, রংপুরে সমিতির আওতাধীন খামার ১২ হাজারের বেশি। এর বাইরে আরও আছেন ১৮ থেকে ২০ হাজার খামারি। জেলায় প্রতিদিন গড়ে দেড় লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। গো—খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ৩০ শতাংশ খামার বন্ধ হয়ে গেছে। আর কিছু বন্ধের পথে রয়েছে।

খেঁাজ নিয়ে জানাগেছে ‘এক বছর আগে বাজারে ৩০ কেজি ওজনের এক বস্তা মিক্সড ভুসির দাম ছিল ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। এখন সে ভুসির বাজারে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৩৫০ থেকে এক হাজার ৩৮০ টাকায়। ফিডের কেজি ছিল ২৫ থেকে ২৭ টাকা, এখন যা ৪০ থেকে ৪২ টাকা হয়েছে।’ ‘এক বছর আগে এক কেজি খৈলের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা। আগে গমের ভুসির কেজি ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা। এখন তা ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধানের কুঁড়ার কেজি ৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮ টাকা। এছাড়া ভুট্টার গুঁড়া বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা প্রতিকেজি। এছাড়াও  এক হাজার আটি শুকনো খড় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে একটা গাভির পেছনে দিনে গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা ব্যয় হয়। সবকিছুর দাম বাড়লেও সে অনুযায়ী বাড়েনি দুধের দাম।  অথচ এক বছর আগে এক লিটার দুধ বিক্রি করেছেন ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। এখন বিক্রি করছেন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। গো—খাদ্যের দাম যে হারে বেড়েছে, সে তুলনায় বাড়েনি দুধের দাম। এতে লোকসান হচ্ছে।

রংপুর দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রের (মিল্কভিটা) ব্যবস্থাপক ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান,  তাদের দৈনিক ধারণক্ষমতা ১০ হাজার লিটার। বর্তমানে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ হয়।’ ‘দুধের ঘনত্ব অনুয়ায়ী দাম নির্ধারণ হয়ে থাকে। বর্তমানে ভালোমানের এক লিটার দুধ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং এর নিচে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দামে ক্রয় করা হচ্ছে।’

জানাগেছে, রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ, ছোট রংপুর, জোড়ইন্দ্রা, সাতমাথা, বীরভদ্র বালাটারি, নাছনিয়া, খাসবাগ, নামাদোলা, তামপাট, সাহেবগঞ্জ এলাকাসহ রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও জেলার পীরগঞ্জ, কাউনিয়া, হারাগাছ, পীরগাছা, মিঠাপুকুর এলাকায় গরু’র খামারের অধিক্য ছিল। বর্তমানে তা নেই। দুগ্ধ খামারির সংখ্যাও কমে গেছে।

নগরীর সাতমাথা বীরভদ্র বালাটারি এলাকার সুজন পাটোয়ারি ও আফজাল হোসেন বলেন, তাদের এলাকায় এক সময় প্রতিটি বাড়িতে ৫ থেকে ৭টি গাভী ও গরু ছিল। খাসবাগ ও বালাটারিতে দুই’টি মিল্কভিটা গড়ে উঠেছিলো। বর্তমানে অব্যাহত লোকসানের মুখে অনেক খামারি পেশা বদল করেছেন। কেউ কেউ গাভির সংখ্যা কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। খরচ কমাতে বাড়তি শ্রমিক না রেখে নিজেরাই লালন—পালন করছেন।

রংপুর সদরের মমিনপুর এলাকার জহুরুল ইসলাম মিঠু  ও তারাগঞ্জের ইকরচালী এলাকার আব্দুস সালাম বলেন, পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় তারা গরুকে প্রয়োজনীয় খাবার দিতে পারছেন না। এতে গরুর স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে। পাশাপাশি দুধের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

অন্যদিকে দুধের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীরা জানান, দুধের উৎপাদন কমে গেলে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়বে। এতে বাজারে দুধের দাম বেড়ে যাবে। দুগ্ধজাত পণ্যের দামও বাড়বে।

এবিষযে রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এনামুল হক জানান, ‘রংপুর মহানগরীসহ জেলার আট উপজেলায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত খামারি ৩ হাজার ১৪৯ জন। দুগ্ধ উৎপাদনকারী গাভি রয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার। বড় খামারিরা তাদের গরুর সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন এটা সত্য। তবে  প্রান্তিক ও মাঝারি খামারির সংখ্যার সাথে গাভীর সংখ্যাও বেড়েছে।

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়