বুড়িতিস্তা জলাধার খননের প্রতিবাদে মশাল মিছিল
মোঃ হাবিবুল হাসান হাবিব,ডিমলা (নীলফামারী):
নীলফামারীর ডিমলায় বুড়িতিস্তা সেচ প্রকল্পের জলাধার খননকে কেন্দ্র করে ও কৃষকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে মশাল মিছিল করেছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বুড়ি তিস্তা নদী তীরবর্তী এলাকায় হাজার হাজার মানুষ এই মশাল মিছিলে অংশ নেন। মশাল মিছিলে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার পাঁচটি মৌজার স্থানীয় কৃষকরা অংশ নেন বলে স্থানীয় সুত্রে জানা যায়। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ডিমলা উপজেলার তিন মৌজা কুঠিরডাঙ্গা, রামডাঙ্গা ও পচারহাট এবং জলঢাকা উপজেলার দুই মৌজা চিড়াভিজা গোলনা ও খারিজা গোলনা মৌজায় প্রায় ৯৫৭ একর তিন ফসলি কৃষিজমি রয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ১৬০ একর জমিতে জনবসতি ও সরকারি স্থাপনা অবস্থিত। এসব জমিতে চাষাবাদ করেই দীর্ঘদিন ধরে তারা জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। জানা গেছে, বুড়িতিস্তা সেচ প্রল্পের জলাধার খননকাজে বাধা, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে প্রায় ৬৯১ জন কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে দায়ের করা মামলা নম্বর ৪ এবং শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে দায়ের করা মামলা নম্বর ৫-এ দন্ডবিধির ১৪৩ ও ৪৪৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। একটি মামলায় ১৯ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ৩০০ জন এবং অপর মামলায় ২২ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ৩৫০ জনসহ মোট ৬৯১ জনকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম। পাউবো সুত্রে জানা জায়, বুড়িতিস্তা নদীতে তাদের মোট ১ হাজার ২১৭ একর জমিতে জলাধার খনন করবে। প্রথম ধাপে পাঁচটি প্যাকেজের ৬৬৭ একর জমিতে খননকাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯ কোটি টাকা। এদিকে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবার সন্ধ্যায় বুড়ি তিস্তা এলাকায় মশাল মিছিল করেন অভিযুক্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মিছিলে অংশ নেওয়া কৃষকেরা বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় জমিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে অধিগ্রহণ করা হয়নি, বাপ-দাদার আমলের তিন ফসলি জমি রক্ষা করতেই এই আন্দোলনে নেমেছেন তারা। মামলা প্রত্যাহার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন আন্দোলনকারীরা। তারা আরও জানান, ২০১০ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব জমির মালিকানা দাবি করে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ শুরু করলে এলাকাবাসী বাধা দেন। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরে উচ্চ আদালতের আদেশে কৃষকেরা জমিগুলোর ভোগদখল করে আসছেন। এ বিষয়ে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৗশলী আতিকুর রহমান বলেন, বুড়িতিস্তা নদীর অধিগ্রহন করা জমিতে জলাধার খননের প্রকল্প নিয়েছে সরকার। যারা সরকারী কাজে বাঁদা দিয়েছে তাদের নামে মামলা করা হয়েছে।