গঙ্গাচড়ায় গরুর হালে সংসার চলে ফজলু মিয়ার
নির্মল রায়:
“হ্যাঁ হ্যাঁ, ডানে যা, বামে যা”এক সময় গ্রামের কৃষকদের মুখে বহুল প্রচলিত এই ডাক আজ আর তেমন শোনা যায় না। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে গরু দিয়ে হাল চাষের সনাতন পদ্ধতি। তবে এখনো সেই ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরে রেখেছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের আদর্শপাড়া (খামার) এলাকার কৃষক ফজলু মিয়া (৫২)।
ফজলু মিয়া জানান, তাঁর বাবা-দাদা গরু দিয়েই জমি চাষ করতেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি এখনো গরু দিয়ে হাল চাষ করে আসছেন। জমি চাষাবাদের জন্য তিনি পাওয়ার টিলার কিংবা অন্য কোনো আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ওপর নির্ভর করেন না। পাশাপাশি জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও খুব সীমিত রাখেন।
তিনি বলেন, “নিজের জমি গরু দিয়ে হাল চাষ করার কারণে খরচ অনেক কম হয়। এতে করে সবদিক থেকেই সাশ্রয়ী।”
শুধু নিজের জমিই নয়, ফজলু মিয়া আশপাশের কৃষকদের জমিও হাল দিয়ে চাষ করে দেন। সেই আয়ের টাকাতেই মূলত তাঁর সংসার চলে।
ফজলু মিয়ার মতে, অনেক কৃষক এখনো পাওয়ার টিলারের পরিবর্তে হাল চাষকে বেশি গুরুত্ব দেন। কারণ লাঙ্গলের ফলা টিলারের তুলনায় মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করে, ফলে মাটি ঝুরঝুরে হয় এবং ফসলের ফলনও ভালো হয়।
গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, “ফজলু মিয়া একজন পরিশ্রমী কৃষক। তিনি আজও সনাতন পদ্ধতিতে গরু দিয়ে হাল চাষ করে নিজের ও অন্যের জমিতে ফসল উৎপাদন করছেন। বর্তমানে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ খুবই বিরল। লাঙ্গলের ফলা টিলারের ফলার চেয়ে গভীরে যায়, ফলে মাটির গুণাগুণ বজায় থাকে, পিএইচ মাত্রা ঠিক থাকে এবং ফসল ভালো হয়।
প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা কৃষির ঐতিহ্যকে আগলে রেখে আজও গরুর হালেই জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন ফজলু মিয়া যা নতুন প্রজন্মের কৃষকদের জন্যও এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।