ঘোড়াঘাটে ফুটপাতের গরম পোশাকের শীত মোকাবেলা প্রস্তুতি
ঘোড়াঘাট প্রতিনিধিঃ
শীতের দাপটে কাঁপছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট। গত ক’দিনের অব্যাহত শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা কয়েক দিনে দেশের সর্বনিন্ম তাপমাত্রার পর রোববার ব্যারোমিটারের পারদ সামান্য উর্ধ্বমুখ হলেও তাতে সুখবর মেলেনি। বরং দিনভর সূর্যের দেখা না মেলায় কুয়াশা আর উত্তরের বাতাসে হাড়ে কাঁপন অব্যহত রয়েছে। তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে প্রচন্ড শীতের প্রভাব। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা ও সারাদিনের হিমেল বাতাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। শীতের এই তীব্রতাকে কেন্দ্র করেই ঘোড়াঘাটের বিভিন্ন বাজার ও ফুটপাতে জমে উঠেছে গরম পোশাকের বেচাকেনা। উপজেলার রানীগঞ্জবাজার , পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা, ওসমানপুরবাজার , ডুগডুগিহাটবাজার, হরিপাড়া হাট বাজারসহ প্রধান সড়কের ফুটপাতগুলোতে গড়ে উঠেছে শীতের পোশাকের অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানে সোয়েটার, জ্যাকেট, হুডি, মাফলার, টুপি, হাতমোজা, শাল ও কম্বলের মতো নানা ধরনের গরম পোশাক বিক্রি করতে দেখা গেছে। রঙিন ও বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ফুটপাতে বিক্রি হওয়া এসব পোশাকের দাম দোকানের তুলনায় তুলনামূলক কম হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা হামিদ, করিম, মনির জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিক্রিও বেড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী বলেন, দিনে গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার পোশাক বিক্রি হলেও সন্ধ্যা ও রাতে বিক্রি আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ কাজ শেষে রাতে গরম কাপড় কিনতে বেশি আসেন। কেউ কেউ পাশ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার পাইকারি বাজার থেকে পোশাক এনে অস্থায়ীভাবে ফুটপাতে বিক্রি করছেন, যা তাদের জীবিকার অন্যতম উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রেতারা আব্দুস সালাম জানান, তীব্র শীতের কারণে গরম কাপড় কেনা এখন নিত্য প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। সীমিত আয়ের কারণে তারা ফুটপাত থেকেই সাধ্যের মধ্যে পোশাক কিনছেন। বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, নির্মাণশ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে ফুটপাতের গরম পোশাকের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। তারা আরও বলেন , শীতের এই সময়ে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেয়া প্রয়োজন। তাদের উষ্ণতার জন্য একাধিক গরম কাপড়ের দরকার। নিম্ন বা মধ্যবিত্তের পরিবারের জন্য যা ব্যায়বহুল। নিম্নবিত্ত দিন আনে দিন খায়। তাদের পক্ষে একাধিক শীতের পোশাক কেনা সম্ভব নয়। আবার যারা মধ্যবিত্ত তাদের পক্ষেও বেশি দামে শীতের পোশাক কেনা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই ফুটপাতে একটু দেখেশুনে কম দামে মোটামুটি ভালো পোশাকটাই পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে, শীতের তীব্রতায় সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়েছে ঠিকই।