রংপুরে কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশন রংপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল দশটায় রংপুর শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশে মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে মিলনায়তনটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আজিজুর রহমান আজাদ। প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা পেশ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।
কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশন রংপুর জেলা শাখার চেয়ারম্যান ফিরোজ মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং ভাইস চেয়ারম্যান হামিদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার চেয়ারম্যান সুমন সরকার, রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখার চেয়ারম্যান মো. শাওন, জেলা শাখার সাবেক চেয়ারম্যান নায়েবুজ্জামান, আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
প্রধান অতিথি আজিজুর রহমান আজাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শুধু ভালো ফল করলেই আজকের দিনে সফল হওয়া যায় না। পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন সময়ের দাবি। তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও নৈতিক মূল্যবোধ—এই চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “একজন শিক্ষার্থী যদি নৈতিকতায় দৃঢ় না হয়, তবে তার অর্জন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সৎ চরিত্র, মানবিকতা ও দেশপ্রেম—এই গুণগুলো ধারণ করেই শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে। কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশন সেই আলোকিত মানুষ তৈরির কাজটিই করে যাচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে মোট ৩৮৫ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি ল্যাপটপ, ক্রেস্ট, সনদ, কলম ও স্কুল ব্যাগ। এছাড়াও ট্যালেন্টপুল, সাধারণ ও বিশেষ—এই তিন ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়।
ল্যাপটপ বিজয়ী শিক্ষার্থীর অনুভূতি
ল্যাপটপ বিজয়ী এক শিক্ষার্থী অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “এই সম্মাননা আমাকে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করতে অনুপ্রাণিত করবে। কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে আমি দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করতে চাই।”
এক অভিভাবক বলেন, “আজকের এই আয়োজন আমাদের সন্তানদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। শুধু পুরস্কার নয়, এমন সুন্দর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
প্রধান আলোচক মোস্তাকুর রহমান জাহিদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে হবে বড়। মেধার সঙ্গে আত্মবিশ্বাস আর সামাজিক দায়বদ্ধতা যুক্ত হলেই একজন শিক্ষার্থী সত্যিকারের নেতৃত্বে পৌঁছাতে পারে।”
শেষে কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা ও কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের উত্তরোত্তর সফলতা প্রত্যাশা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।