ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন হুমকির মুখেই এখন করতোয়া নদী
আজাদুল ইসলাম আজাদ, পীরগঞ্জ:
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর থেকে বালু উত্তোলন চলমান থাকায় হুমকির মুখে পড়েছে কৃষি জমি, রাস্তা ঘাট এমনকি করতোয়া নদী। ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে গ্রামীণ কাঁচা পাকা সড়ক ব্যাপক ক্ষতি সাধন হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। উপজেলা করতোয়া নদীর বুকসহ প্রায় ৫০টি পয়েন্ট থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে দিবারাত্রী বালু উত্তোলনের কাজ চলছে। বিশেষ করে করতোয়া নদীতে ব্যাঙের ছাতার মতো মেশিন বসিয়েছেন বালু ব্যবসায়ীরা। উপজেলার করতোয়া নদী ছাড়াও আখিরা নদীসহ পুকুর গুলোতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রাত দিন সমান করে বালু উত্তোলন করছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষি আবাদি জমি এবং ঘর-বাড়ি। অচল হয়ে পড়েছে ওই সব এলাকার চলাচলের রাস্তাগুলো। সরেজমিন দেখা গেছে,করতোয়া নদীর ঘেঁষে বড় আলমপুর ইউনিয়নের শালপাড়া ঘাট সংলগ্ন পয়েন্টে স্থানীয় টাউট প্রকৃতির সাইফুল ইসলাম ও মৃত বারীর ছেলে মোসাদ্দেকুল নামের ২ ব্যক্তির নেতৃত্বে নদী থেকে প্রতিদিন দেদারসে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে। বালু বহনের মাহিন্দ্র গাড়ি ভেকু দিয়ে ভর্তি করে দেয়া হচ্ছে। লাইন ধরে সেগুলো চলে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।
টুকুরিয়া,বড় আলমপুর,কাবিলপুর এবং চতরা ইউনিয়নের করতোয়অ ঘেষাঁ সবগুলো পয়েন্ট থেকে দিবারাত্র বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। টুকুরিয়া ইউনিয়নের পারবোয়ালমারী গ্রামের মমদেল হোসেনের ছেলে আমিনুল ইসলাম,আনোয়ার হোসেন দু’ভাই ও মনোয়ার হোসেন পৃথক ৩ টি স্থানে এবং কাঁচদহ ড,ওয়াজেদ ব্রীজ সংলগ্ন সাজেদুল ইসলাম দিবারাত্র বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছে। বড় আলমপুর ইউনিয়নের শিমুলবাড়ি গ্রামে আরিফুল ও ফুল মিয়া,চতরা ইউনিয়নের গিলাবাড়ি গ্রামে মনোরুল ইসলাম পৃথক পয়েন্টে বালু উত্তোলন করছে। ক্ষয়-ক্ষতির কারণে টুকুরিয়া এবং চতরার বালু পয়েন্টের আশ-পাশের রাস্তা দিয়ে বাইসাইকেল,ভ্যান-রিক্সা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ, ৬ মাস পুর্বে ২/৩ টি বালু পয়েন্টে প্রশাসন হানা দিয়ে সরঞ্জাম ভেঙ্গে দিয়ে মোটা অংকের অর্থ জরিমানা করে। এরপর বেশ কিছুদিন বন্ধ রাখার পর আবারও পুরোদমে শুরু হয়েছে বালু উত্তোলন। ব্যস্ততা ও সৃষ্ট অযুহাতে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা হাত পা গুটিয়ে বসে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এসব পয়েন্টে বালু উত্তোলন বন্ধে কোন প্রকার অভিযান নেই। যে কারনে কিছুতেই যেন থামছে না বালু উত্তোলনকারীদের কর্মকান্ড।
টুকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন-আমার বাড়ি হতে পীরগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তায় ধুলো আর বালু। এসব রাস্তার ধুলো বালির কারনে সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেই সাথে রাস্তার দুই পাশের ঘর-বাড়ি গুলোতে ধুলো বালি ঢুকে পরিবেশ নষ্টসহ শ্বাসকষ্ট,নিউমোনিয়াসহ করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে মর্মে আশংকা করা হচ্ছে। এদিকে উত্তোলিত বালু দিনরাত ট্রলীযোগে প্রশাসনের নাকের ডগার উপর দিয়ে পরিবহন করা হলেও তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমুচ্ছেন।
পীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার তানভির আহমেদ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন,করতোয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন সরকারিভাবে নিষেধ রয়েছে। আমাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে যারা অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তুলছে তাদের বিরুদ্ধে অচিরেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।