২৫ চৈত্র, ১৪৩২ - ০৮ এপ্রিল, ২০২৬ - 08 April, 2026

রাজারহাটে নরমাল ডেলিভেরির সাফল্য, সিজারিয়ান পদ্ধতি কমায় নিরাপদ মাতৃত্বে আশার আলো

1 hour ago
7


উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তা সহ ৭উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পদশুন্য

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট(কুড়িগ্রাম):

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় নরমাল ডেলিভেরির মাধ্যমে সন্তান প্রসবের হার বাড়ছে, যা নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ইতোমধ্যে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীনে চাকিরপশার ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের পরিবার ও স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে এই দুই ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২০০-এর বেশি গর্ভবতী মায়ের নরমাল ডেলিভেরি সম্পন্ন হয়েছে। শুধু গত মার্চ মাসেই চাকিরপশার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ৩ জন এবং ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন কেন্দ্রে ১২ জন মায়ের স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়েছে। এতে মা ও নবজাতক উভয়ই সুস্থ রয়েছে।

চাকিরপশার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পারিবারিক কল্যাণ পরিদর্শক মোছা. মুন্নি খাতুন বলেন, “আমি সব সময় গর্ভবতী নারীদের নরমাল ডেলিভেরির জন্য উৎসাহিত করি। নিয়মিত তাদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এনে নিরাপদভাবে নরমাল ডেলিভেরি সম্পন্ন করা হচ্ছে।”অপরদিকে, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পারিবারিক কল্যাণ পরিদর্শক মোছা. শাহানাজ বলেন, “শুরুতে অনেক গর্ভবতী নারী নরমাল ডেলিভেরি নিয়ে ভয় পেতেন এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসতে চাইতেন না। তবে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের আনা হচ্ছে। একবার নরমাল ডেলিভেরি হওয়ার পর তারা এর উপকারিতা বুঝতে পারছেন। বর্তমানে এ কেন্দ্রে নরমাল ডেলিভেরির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে-গত মাসেই ১২টি নরমাল ডেলিভেরি সম্পন্ন হয়েছে।

ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ এলাকার খুশিমণি নামের এক প্রসূতি মা বলেন,‘আগে নরমাল ডেলিভেরি নিয়ে আমার অনেক ভয় ছিল। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরা আমাকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছেন এবং সাহস যুগিয়েছেন। তাদের সহযোগিতায় আমি নিরাপদভাবে নরমাল ডেলিভেরির মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিতে পেরেছি। এখন আমি ও আমার সন্তান দু’জনই সুস্থ আছি। আমি মনে করি, অপ্রয়োজনে সিজারিয়ান না করে নরমাল ডেলিভেরির দিকেই সবার গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জানা যায়, উপজেলার অধিকাংশ গর্ভবতী নারীকে এখনও কুড়িগ্রাম জেলা শহরের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে নেওয়া হয়। সেখানে অধিক অর্থের বিনিময়ে সিজারিয়ান অপারেশন করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অনেক ক্ষেত্রে মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

একটি বেসরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি হওয়া অন্তত ২০ জন গর্ভবতী নারী সিজারিয়ান অপারেশনের পর মারা গেছেন। এছাড়া প্রায় ১০টি নবজাতক বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

সিজারিয়ানের ঝুঁকি কমাতে সরকার নরমাল ডেলিভেরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রাজারহাট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উঠান বৈঠক, সচেতনতামূলক সভা ও পরামর্শ কার্যক্রমের মাধ্যমে নরমাল ডেলিভেরি ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

 এবিষয়ে বুধবার(৮এপ্রিল) রাজারহাট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে খোদ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সাতটি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নেই। এছাড়া খাবার বড়ি, কনডম, ইনজেকশন, জরুরি পিল, আইইউডি ও ইমপ্লান্টসহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিকেও যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।’

তিনি আরও জানান, এসব সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও মাত্র দুইজন পারিবারিক কল্যাণ পরিদর্শক গত এক বছরে ২০০-এর বেশি নরমাল ডেলিভেরি সম্পন্ন করেছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ২৪ঘন্টা এই দু’টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র খোলা রয়েছে। সব সময় সেবা দেয়া হচ্ছে।

এছাড়া এ উপজেলায় গত এক বছরে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমেও অগ্রগতি দেখা গেছে। এ সময়ে ৮টি এনএসভি (নো-স্ক্যালপেল ভ্যাসেকটমি) এবং ৪৫টি টিউবেকটমি সম্পন্ন হয়েছে।#

 

 

     

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth