গঙ্গাচড়ায় শাকসবজির মূল্যবৃদ্ধি, বাজার মনিটরিং নেই—ভোগান্তিতে ক্রেতারা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় হঠাৎ করেই বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় শাকসবজির দাম। দামের ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন। পাশাপাশি অধিকাংশ দোকানে মূল্য তালিকা না থাকায় ক্রেতারা বিভ্রান্তিতে পড়ে একই পণ্যে ভিন্ন ভিন্ন দাম দিচ্ছেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) উপজেলার গঙ্গাচড়া ও বেতগাড়ীসহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন, কাঁচামরিচ, টমেটো, আলু ও পেঁয়াজসহ প্রায় সব ধরনের শাকসবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে অসন্তোষ ও দুশ্চিন্তা বেড়েছে।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা রহিম উদ্দিন (৫৫) বলেন,
“আগে যে সবজি ৩০-৪০ টাকায় কিনতাম, এখন তা ৫০-৬০ টাকা লাগছে। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটা অনেক কষ্টের।”
বড়বিল এলাকার গৃহিণী সালমা বেগম (৩৫) বলেন,
“প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন নতুন দাম শুনতে হয়। কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, মনে হয় যার যা ইচ্ছা তাই নিচ্ছে।”
আরেক ক্রেতা মিজানুর রহমান (৪৫) বলেন,
“বাজারে কোনো মনিটরিং চোখে পড়ে না। দোকানগুলোতেও মূল্য তালিকা নেই। প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি করলে এমনটা হতো না।”
এ বিষয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাবই খুচরা বাজারে পড়ছে। পাশাপাশি পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও সরবরাহ কিছুটা কম থাকাও মূল্যবৃদ্ধির কারণ বলে তারা উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন, বাজার মনিটরিং জোরদার করা হলে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার বলেন,
“রমজান মাসে আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করেছি, এখনো তা চলমান রয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কিছুদিন অনুপস্থিত ছিলেন, তিনি এখন যোগদান করেছেন। ফলে এখন থেকে আরও ঘনঘন বাজার মনিটরিং করা হবে।”
দ্রুত বাজার তদারকি জোরদারের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।