১৩ বৈশাখ, ১৪৩৩ - ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ - 26 April, 2026

নীলফামারীতে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা

2 hours ago
19


নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীতে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরের জেলা নীলফামারী জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। শনিবার(২৫ এপ্রিল) রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে বিভিন্ন খাল-বিল ও নিম্নাঞ্চল পানিতে ভরে গেছে। এতে করে ফসলি জমি প্লাবিত হয়ে কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

রবিবার(২৬ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধানক্ষেত, সবজি ক্ষেতসহ বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে চলে গেছে। বিশেষ করে নিচু এলাকার কৃষিজমিতে পানি জমে থাকায় বোরো ধান ও মৌসুমি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। অনেক স্থানে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে কৃষকরা জানান।

স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে কাঁচা রাস্তাঘাট কাদায় পরিণত হয়েছে, ফলে চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। খাল-বিল উপচে আশপাশের বসতবাড়িতেও পানি ঢোকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, জেলার সৈয়দপুর, কিশোরগঞ্জ, ডোমার ও ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দুর্বল। ফলে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খাল-বিল উপচে আশপাশের গ্রামীণ সড়কেও পানি উঠেছে, ফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

রবিবার(২৬ এপ্রিল) আবহাওয়া অফিসের সূত্র মতে, গত ২৪ ঘন্টায় (আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত) বিভাগীয় শহর রংপুর জেলা তথা সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ১২৭ মিলিমিটার। এছাড়া নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৪৭ মি.মি ও ডিমলায় ৫ মি.মি, দিনাজপুরে ৩৩ মি.মি, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩৩ মি.মি ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অপরদিকে নীলফামারী জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র মতে, সকাল ৯টা পর্যন্ত নীলফামারী সদরে ৫৮ মি.মি, তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে ১৮ মি.মি ও তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নীলফামারীর ডালিয়া ডালিয়া পানি উন্নয়ন বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, তিস্তার উজানে ভারীবৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গিয়েছে। আমরা নজরদারী করছি।

এদিকে রবিবার(২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো: ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের উত্তরাঞ্চল ও আশপাশ এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরী হতে পারে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে আজ ২৬ এপ্রিল সকাল ০৯টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘন্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি./২৪ ঘন্টা) থেকে অতি ভারী (১৮৮ মি.মি./২৪ ঘন্টা) বর্ষণ হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে এসব এলাকার কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

এ নিউজ লিখা পর্যন্ত বিকাল সাড়ে ৩টায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনও বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth