গঙ্গাচড়ার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ, এটিওদের তদারকি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ, নোহালী ও আলমবিদিতর ক্লাস্টারের আওতাধীন কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও তদারকিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়া, শিক্ষকদের নিয়মিত দেরিতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা, পাঠদানে অনিয়ম এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশের অব্যবস্থাপনার মতো অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চললেও দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) কেশব চন্দ্র বর্মন ও নাসির উদ্দীনের তদারকি কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকটি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত সময়ের আগেই শ্রেণি কার্যক্রম শেষ করে শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে। কোথাও শিক্ষকরা নিয়মিত দেরিতে বিদ্যালয়ে আসছেন, কোথাও প্রধান শিক্ষক বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যথাযথ অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় ত্যাগ করছেন। পাশাপাশি পাঠদানে অনিয়ম, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ঘাটতির অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এটিওদের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
অভিভাবকদের ভাষ্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিয়মিত ও কার্যকরভাবে বিদ্যালয় পরিদর্শন করলে এ ধরনের অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারত না। তাদের মতে, দুর্বল তদারকি ও জবাবদিহির অভাবের কারণেই কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, নোহালী ইউনিয়নের কে.এন.বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রদীপ সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়মের বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত এটিও নাসির উদ্দীনকে মৌখিকভাবে একাধিকবার জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে কোলকোন্দ ইউনিয়নের মটুকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষিকার নিয়মিত দেরিতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত এটিও কেশব চন্দ্র বর্মনের জানা থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনিয়মে জড়িতদের মধ্যে দায়মুক্তির প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়গুলোতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে অনিয়ম যেন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হচ্ছে।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের অভিভাবক স্বপন মিয়া বলেন, “বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি থাকলে কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলা করার সাহস পেতেন না। কিন্তু অভিযোগের পরও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
নোহালী ইউনিয়নের অভিভাবক জমিয়ার রহমান বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। বিদ্যালয়ে পাঠদান ও শৃঙ্খলা নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তৎপরতা চোখে পড়ছে না।”
একাধিক সচেতন নাগরিক বলেন, কোলকোন্দ ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা এটিও কেশব চন্দ্র বর্মন এবং নোহালী-আলমবিদিতর ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা এটিও নাসির উদ্দীনের আওতাধীন একাধিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে তাদের তদারকি কার্যক্রম কতটা কার্যকর, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা মনে করেন, প্রাথমিক শিক্ষা একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি। সেই ভিত্তি গড়ে তোলার প্রতিষ্ঠানগুলোতেই যদি অনিয়ম, দায়িত্বহীনতা ও তদারকির ঘাটতি থাকে, তবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে কোলকোন্দ ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কেশব চন্দ্র বর্মন এবং নোহালী-আলমবিদিতর ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তারা বলেন, “আমরা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন ও মনিটরিং করছি। অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলো সঠিক নয়।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (সিনিয়র) রুহুল আমিন বলেন, “উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।