গঙ্গাচড়ায় তিস্তার মার্জিনাল ডাইকে ধস, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ কয়েকটি গ্রাম ভাঙনের ঝুঁকিতে এমপির পরিদর্শনের পর জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে কাজ শুরু
নির্মল রায় :
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নে তিস্তা নদীর মার্জিনাল ডাইকের একটি অংশে আকস্মিক ধস দেখা দেওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম নতুন করে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে মার্জিনাল ডাইকের ব্লক পিচিংয়ের একটি অংশ ধসে পড়ে। ধসের পর নদীর তীব্র স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আরও বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্থানীয় মসজিদ, কয়েকটি পাকা বসতবাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া নদীতীর থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে অবস্থিত শহর রক্ষা বাঁধও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, ওই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে রংপুর শহরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও প্লাবনের সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার রাত প্রায় ৯টার দিকে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হয়েছে।
কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, "মার্জিনাল ডাইকে ধসের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধসের কারণে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনবসতি হুমকির মুখে পড়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। আমরা চাই, শুধু জরুরি ব্যবস্থা নয়, এখানে একটি স্থায়ী ও টেকসই ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এলাকাবাসী নিরাপদে থাকতে পারেন।