গঙ্গাচড়ার দুই ইউনিয়নকে ক্ষুধা ও পুষ্টিহীনতামুক্ত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গঙ্গাচড়া ও কোলকোন্দ ইউনিয়নকে ক্ষুধা ও পুষ্টিহীনতামুক্ত করার লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ঘোষণা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দুপুরে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ম্যানেজার উত্তম দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু মো. আলেমুল বাসার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটি শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। গঙ্গাচড়া ও কোলকোন্দ ইউনিয়নকে ক্ষুধা ও পুষ্টিহীনতামুক্ত করার এই পরিকল্পনা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও সুন্দর আগামী গড়ার অঙ্গীকার।”
তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, স্থানীয় প্রশাসন, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং সর্বস্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। ভবিষ্যতেও যাতে এ দুই ইউনিয়নে অপুষ্টির হার বৃদ্ধি না পায়, সে লক্ষ্যে বহুমুখী অংশীদারদের সম্পৃক্ত করে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
এ কর্মসূচির আওতায় শিশু ফোরাম, যুব ফোরাম, গ্রাম উন্নয়ন সোসাইটি, কো-অপারেটিভ সোসাইটি, উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন পরিষদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হবে বলে জানানো হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার (ডিজিজ কন্ট্রোল) ডা. আশেকুর রহমান, উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী জানজাবিল বিনতে আহম্মেদ, কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফুল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার লিওবার্ট চিসিমে এবং স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ওয়াশ স্পেশালিস্ট পল্লব কান্তি রায়।
বক্তারা উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ক্ষুধা ও পুষ্টিহীনতামুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখতে এবং পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।