২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ - ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ - 05 October, 2026

খানসামায় গ্রীষ্মকালীন শিমে লাভের হাসি, কৃষকের জমিতে নতুন সম্ভাবনা

12
2026-10-05 21:15:41

news-picture

মোঃ বুলবুল ইসলাম, খানসামা (দিনাজপুর):

দিনাজপুরের খানসামায় টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভালো ফলন ও বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় এ চাষ করে স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মধ্যে। মাচা তৈরিতে তুলনামূলক কম খরচ হওয়ায় অনেক কৃষক ধানের বিকল্প হিসেবে গ্রীষ্মকালীন শিমের আবাদে ঝুঁকছেন। এতে কেউ কেউ ইতোমধ্যে লাভের মুখও দেখছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, খানসামার ছয়টি ইউনিয়নে এবার প্রায় ১২ বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ হয়েছে। বিশেষ করে আংগারপাড়া ইউনিয়নের ছিট আলোকডিহি ডাক্তারপাড়া এলাকায় এ চাষ করে ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। একাধিক কৃষকের সাফল্য দেখে আশপাশের এলাকার অন্য কৃষকরাও গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে ধানের উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য কম থাকায় অনেক কৃষক লোকসানের আশঙ্কায় ছিলেন। সার, শ্রমিক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধান চাষ করে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা। এ অবস্থায় লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নিতে এবং জমি থেকে বাড়তি আয় করতে কৃষকদের একটি অংশ বিকল্প ফসল হিসেবে গ্রীষ্মকালীন শিমের আবাদ শুরু করেন। ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পাওয়ায় তাদের অনেকেই এখন এ চাষে আশাবাদী।

সরেজমিনে আংগারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ান গড় গ্রামের আলোকডিহি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাচাজুড়ে শিমের গাছ। গাছে গাছে শিম ধরেছে। কৃষকরা ক্ষেত থেকে শিম সংগ্রহ করে বাজারজাত করছেন। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে চাহিদা থাকায় শিম বিক্রি করে সন্তোষজনক আয় করছেন তারা। ওই এলাকার কৃষক তায়জোদ আলী গ্রীষ্মকালীন হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ করেছেন।

তিনি জানান, জুলাই মাসে বীজ রোপণের পর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে শিম আসতে শুরু করে। এ মৌসুমে তার প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে নিয়মিত গাছ থেকে শিম সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। পাইকারের কাছে প্রতি কেজি শিম ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করছেন। অক্টোবর মাস পর্যন্ত শিম বিক্রি চলবে বলে জানান তিনি। এতে মোট খরচের তুলনায় বেশি অর্থ আয় হবে বলে আশা করছেন এই কৃষক।

অপর কৃষক ময়েজ উদ্দিন বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল বিন আমিনের পরামর্শে তিনি শিম চাষ শুরু করেন। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী চাষাবাদ করায় ভালো ফলন পেয়েছেন। তাদের সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ান গড় ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল বিন আমিন বলেন, গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে উঁচু জমিতে এ ধরনের ফসল চাষের ভালো সুযোগ রয়েছে। কৃষকদের মাঠপর্যায়ে চাষাবাদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে যারা গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করেছেন, তাদের অনেকেই ভালো ফলন পেয়েছেন। বাজারে শিমের ভালো দাম থাকায় কৃষকরাও সন্তুষ্ট। এভাবে ফলন ও বাজারমূল্য ভালো থাকলে আগামীতে আরও কৃষক এ চাষে যুক্ত হবেন বলে আশা করা যায়।

খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, খানসামা উপজেলায় শীতকালে বিভিন্ন জাতের শিম চাষ হলেও গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে চাষের জন্য হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম বেশ উপযোগী। এ জাতটি গ্রীষ্ম ও বর্ষার প্রতিকূল আবহাওয়াও সহনশীল। আগে উপজেলার উঁচু জমিগুলোতে কৃষকরা ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করতেন। বর্তমানে কৃষকদের অধিক লাভজনক ফসল চাষে উৎসাহিত করতে গ্রীষ্মকালীন হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকজন কৃষক এ জাতের শিম চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন এবং বাজারে সন্তোষজনক দামও পাচ্ছেন। এতে সাধারণ কৃষকদের মধ্যেও এ চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কৃষকদের আগ্রহ ও বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ভবিষ্যতে খানসামা উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন শিমের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়