৩ আষাঢ়, ১৪৩১ - ১৮ জুন, ২০২৪ - 18 June, 2024
amader protidin

কুড়িগ্রামে চার আসনেই জাতীয় পার্টি মনোনয়ন চাইবে

আমাদের প্রতিদিন
1 year ago
357


কুড়িগ্রাম অফিস:

কুড়িগ্রামে ৪টি আসনেই প্রার্থী দিতে কাজ করছে জাতীয় পার্টি। এজন্য দল গোছানোর কাজ করছে তারা। কিছু আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের জনপ্রিয়তাকে পূজি করেপ্রার্থীতা পেতে চলছে ব্যাপক দৌড়ঝাপ। কেন্দ্রে জাপার মধ্যে বড় ধরণের কোন্দল লক্ষ্য করা গেলেও কুড়িগ্রামের চিত্র ভিন্ন। এখানে দলের বড় অংশই চাইছে সরকারের সাথে জোট বেঁধে নির্বাচন করার। তবে জোট ভেঙ্গে গেলে একক প্রার্থী দেয়ার চিন্তা-ভাবনাও চলছে। সেই লক্ষ্যে দেনদরবারসহ পোস্টারে পোস্টারে প্রার্থীতার জানান দিচ্ছে অনেকেই। বৃহত্তর রংপুরে দলের একটি বড় পক্ষ রাঙ্গার পক্ষে অবস্থান নিলেও জিএম কাদেরের সাথেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে অপর একটি পক্ষ। ফলে প্রার্থীতা নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও র্নিভার রয়েছে বেশ কয়েকজন প্রার্থী।

কুড়িগ্রাম জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক এমপি মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাক জানান, জাতীয় পার্টির অবস্থান কুড়িগ্রামে সবসময় ভাল ছিল। এখনো আছে। আগামীতেও আমরা ভালো করবো। এবছর ৪টি আসনে প্রার্থীতে পেলে আমরা বিজয় ছিনিয়ে আনবো। দলের মধ্যে ছোট খাটো বিভেদ থাকলেও সেটা দলে কোন প্রভাব ফেলবে না। আমরা দলের প্রয়োজনে যে কোন ছাড় দিতে প্রস্তুত আছি।

জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদ জানান, কুড়িগ্রামের মানুষ এখনো জাতীয় পার্টির উপর আস্থাশীল। স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনী ফলাফলে আমরা সেটা লক্ষ্য করেছি। এবারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জাপা সমর্থকরা বেশ ভালো করেছে। মাঠে জাতীয় পাটির প্রচুর ভোট রয়েছে। আমরা ৪টি আসনে প্রার্থীরা পেলে ইনশাআল্লাহ বিজয় ছিনিয়ে আনবো।

পিছিয়ে পরা কুড়িগ্রাম জেলার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আলাদা দৃষ্টি থাকলেও নেতৃত্বের অভাবে কুড়িগ্রামের উন্নয়ন হচ্ছে না বলা হলেও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদ জানান, জেলার ৪টি আসনের মধ্যে ৩টিতেই আওয়ামীলীগ মনোনীত সংসদ সদস্য রয়েছে। তারা সরকারের কাছ থেকে প্রচুর আর্থিক সহযোগিতা পেলেও বিতর্কিত কাজের জন্যতাদের জনপ্রিয়তা শূণ্যের কোঠায় নেমে গেছে। কারণ তারা জনসাধারণের দোড়গোড়ায় যায় না। ফলে এবার মানুষ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আমি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে বেশ কয়েটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছি। তারমধ্যে কিছু বাস্তবায়ন পর্যায়েও রয়েছে। ফলে পূণরায় এই আসনে আমি মনোনয়ন আশা করছি। আমি পূণরায় প্রার্থী হলেসাধারণ মানুষের ভালোবাসায় বিজয় ছিনিয়ে আনবো ইনশাআল্লাহ! কারণ আমার সময়ে ধরলা নদীর ডানতীর ও বামতীর রক্ষায় ৫৯৫ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে ভূমিকা রেখেছি। অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। নদী ভাঙন রোধে ব্যাপক কাজ আমার সময়ে হয়েছে। চিলমারী নৌবন্দরকে আধুনিকায়ন করতে যোগাযোগ রাখছি। তিস্তা ডেল্টা প্রকল্পের জন্য সংসদে কথা বলছি। এছাড়াও কুড়িগ্রাম জেলাবাসীর সুবিধার জন্য পল্লী বিদ্যুৎকে আলাদা করা হয়েছে। বাফার গোডাউনের জন্য টগরাইহাটে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। শিশু নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বর্ডারগার্ড স্কুল, পুলিশ লাইন স্কুল, কালেকটরেট স্কুল এন্ড কলেজ, ফুলবাড়ী ডিগি কলেজ, ফুলবাড়ী মহিলা কলেজসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে এমপির বরাদ্দে ভবন নির্মানে সহযোগিতা করছি। একাধিক পাকা সড়ক, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসাসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ দিয়েছি। আমি প্রচার বিমুখ হওয়ায় মানুষ আমার কাজ সম্পর্কে না জানলেও তারা জানে আমি একজন সৎ রাজনীতিবিদ। ভদ্রতার মুখোশ পরে লুটপাটের রাজনীতি করি না। সাধারণ মানুষ আমার সম্পর্কে ভালোভাবে জানে। তারা সবসময় আমার পাশে রয়েছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। কুড়িগ্রাম-১ আসনে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক এমপি মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাক একক প্রার্থী থাকলেও এখানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা একজন শক্ত প্রতিপক্ষ। এছাড়াও আওয়ামীলীগ থেকে যিনিই মনোনয়ন পাবেন তার সাথেই অন্যদেরকে লঢ়াই করতে হবে। এখানে আওয়ামীলীগের বর্তমান সংসদ সদস্য আসলাম হোসেন সওদাগরের অবস্থা নড়বড়ে হয়ে গেছে।

কুড়িগ্রাম-২ আসনে বর্তমান এমপি পনির উদ্দিন আহমেদ ছাড়াও এই আসনে প্রার্থীতার দৌড়ে রয়েছেন জাপার অপর প্রার্থী মেজর আব্দুস ছালাম। জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই আসন এবার যাতে হাতছাড়া না হয় সে ব্যাপারে আদাজল খেয়ে নামবে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা। আওয়ামীলীগ থেকে এই আসনে হাফ ডজন প্রার্থী নড়াচড়া করলেও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি মো. জাফর আলী, সহ-সভাপতি এড. আব্রাহাম লিংকন এবং দলের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জ প্রার্থীতা দৌড়ে ইেগয়ে আছেন।

কুড়িগ্রাম-৩ আসনে এরশাদের ভাগ্নি টুম্পা, স্থানীয় জাপা নেতা আবুল হোসেন মাস্টারসহ ব্যবসায়ী ফারুকের নাম শোনা যাচ্ছে। এই আসনে বর্তমান এমপি আওয়ামীলীগের অধ্যাপক এমএ মতিন। তার জনপ্রিয়তা এখন শূণ্যের কোটায় নেমে গেছে। এখানেও আওয়ামীলীগ থেকে প্রায় হাফ ডজন প্রার্থী রয়েছেন। উলিপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মতি শিউলী, সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন মন্টুসহ একাধিক প্রার্থী ভোট এলেই দৌড়ঝাপ করেন। বিএনপি নির্বাচনে গেলে জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভিরুল ইসলাম একজন শক্ত ক্যান্ডিডেট। এছাড়াও ডা, আক্কাস আলী নির্বাচন করলে সব হিসেব-নিকেশ উল্টে যেতে পারে।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে রৌমারী উপজেলা জাতীয় পার্টির সেক্রেটারী একেএম সাইফুর রহমান বাবলুর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও এই আসনে জাপা থেকে অধ্যক্ষ ইউনুছ আলী, সাবেক এমপি গোলাম হাবীব দুলাল ও মেজর তাজের নাম শোনা যাচ্ছে। এই আসনে জেপি প্রার্থী হিসেবে নাম উঠে আসছে জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি রুহুল আমিনের। বিএনপি ও জামায়াতের প্রচুর ভোট রয়েছে এই আসনে। রৌমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান ও বিলুপ্ত রৌমারী জামায়াতের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ডিলার ভোটের মাঠে পরে আছেন নির্বাচনের সুযোগ পেলে। এই আসনে মো’ জাকির হোসেন এমপি আওয়ামীলীগের টিকেট পেয়ে বৈতরণী পার হন। সরকার তাকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বভার অর্পন করেন। তার মাঠের অবস্থা নড়বড়ে হয়ে গেছে। মাদকের রুট হিসেবে পরিচিত এই আসনে পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের টিকেট কে পাবেন এখনো বলা না গেলেও হাফ ডজন নেতা এখানে মাঠে দৌড়ঝাপ করছেন।

কুড়িগ্রাম সচেতন নাগরিক কমিটি সনাকের সভাপতি অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব নীলু জানান, কুড়িগ্রামের ৪টি আসনের মধ্যে ৩টিতেই সরকারী দলের এমপি থাকলেও তারা আশানুরুপ কোন কাজ করতে পারেনি। সাধারণ মানুষের নজর কাড়তে পারে এমন কোন কাজের নজির তারা দেখাতে পারেনি। মানুষের প্রত্যাশা পুরণে তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা মাঠে ময়দানে সময় দিতে পারেনি। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকার তাদের উপর আস্থা রাখলেও তার প্রতিদান দিতে পারেনি তারা। সদরের গুরুত্বপূর্ণ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মনোনয়ন পেলেও প্রত্যাশা পুরণে তিনিও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির অবস্থান নিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি খন্দকার খায়রুল আনম বলেন, এখানে এখনো জাতীয় পার্টির প্রচুর ভোট রয়েছে। জোট থেকে জাতীয় পার্টি মনোনয়ন পেলে অবশ্যই ভালো করবে। তবে জেলায় সরকার দলীয় ৩জন এমপি বিজয়ী হলেও তাদের কর্মকান্ডে মানুষ হতাশ। নদী ভাঙনসহ বিভিন্ন দুর্যোগে তাদেরকে কাছে পায়নি মানুষ। অভাবী জেলার তিলক থেকে মুক্তির জন্য তাদের কোন উদ্যোগ বা পরিকল্পনা চোখে পরেনি। এখনো ৬৪ নম্বরেই এই জেলার মানুষ আটকে আছে। ফলে সরকারদলীয় এমপিরা বেশ তোপের মুখে রয়েছেন। তবে জাতীয় পার্টির এমপির ব্যাপারে দুর্নীতির কোন অভিযোগ না উঠলেও। প্রগতিশীল ও সুশীল সমাজের মানুষের সাথে তার কোন যোগাযোগ ছিল না। ফলে তার কর্মকান্ড সম্পর্কে মানুষ অজ্ঞাতই ছিল।

সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি এড. আহসান হাবীব নীলু জানান, এই জেলার মানুষের প্রত্যাশা পুরণে ব্যর্থ হয়েছে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা। সংসদে তারা দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেননি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত বড় মাপের প্রকল্পগুলো এখনো চালু করতে পারেনি তারা। ফলে হতাশ সাধারণ মানুষ।

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়