কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রস্তাবিত বাইপাস সড়কের নকশা বাতিল ও পুণ:বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রস্তাবিত বাইপাস সড়কের নকশা অনুমোদনে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তা বাতিল করে নতুনভাবে নকশা প্রণয়নের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কে ঘন্টাব্যাপী মানবন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ‘উলিপুরের ভুক্তভোগী জনগণ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায়। পরে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন একটি প্রতিনিধি দল।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গওছল আজম মিঠু, আব্দুর রহমান, মোজাম্মেল হক, শামছুল ইসলাম, সাইফুল আখতার, হাফিজুর রহমান, সেলিম, কামাল ইদ্রিস, আলমগীর হোসেনসহ অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বাইপাস সড়কের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণের নিয়ম থাকলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ তা উপেক্ষা করে গোপনে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে। তারা দাবি করেন, বিগত সময়ে একটি সিন্ডিকেট সরকারি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে সম্ভাব্য বাইপাস রুট ধরে বিভিন্ন স্থানে জমি কিনে নিম্নমানের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে অর্থলোপাটের পায়তারা করছে।
বক্তারা আরও বলেন, এসব স্থাপনার সঙ্গে কোনো সড়ক সংযোগ না থাকলেও পরিকল্পিতভাবে বাইপাস সড়ককে ওইসব স্থাপনার পাশ দিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সুবিধা পায়। এতে সাধারণ মানুষের স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের মুল হোতা সড়ক জনপদ বিভাগের কতিপয় কর্মচারী ও কর্মকর্তা।
তারা উল্লেখ করেন, সাধারণত বাইপাস সড়কের সংযোগস্থল বাজার থেকে দূরে রাখা হলেও উলিপুরের আমিন মোড় সংযোগটি বাজারের খুব কাছাকাছি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াবে। ওই এলাকায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শতাধিক দোকানপাট এবং প্রায় ৭০টির বেশি বসতবাড়ি রয়েছে। এতে করে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে।
বক্তাদের দাবি, সামান্য নকশা পরিবর্তনের মাধ্যমে এ ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হলেও সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের কারণে তা করা হচ্ছে না। তারা দ্রুত তদন্ত করে জনস্বার্থে নতুন নকশা প্রণয়নের আহ্বান জানান।
এ সময় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান বক্তারা।