৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ - ১৪ জুন, ২০২৬ - 14 June, 2026

পড়া না পারায় কওমি মাদ্রাসার শিশুকে পিটিয়ে জখম কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ, পালিয়ে রক্ষা

38
2026-06-14 19:10:46

news-picture

আঞ্চলিক প্রতিনিধি:

রংপুর নগরীর একটি কওমি মাদ্রাসায় পূর্বনির্ধারিত পড়া মুখস্থ করে বলতে না পারায় ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সোহাইবুর রহমানকে বেত দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের পর শিশুটিকে সারাদিন খুদার্থ অবস্থায় একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে সুযোগ পেয়ে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বদরগঞ্জে নিজ বাড়িতে ফিরে আসে সে। আহত অবস্থায় বর্তমানে শিশুটি বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনার প্রায় ১২ ঘণ্টা পরও ক্ষতচিহ্নগুলো স্পষ্ট ছিল। নির্যাতনের শিকার সোহাইবুর রহমান রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের শেখেরহাট মাটিয়াপাড়া গ্রামের নাজিমুল ইসলামের ছেলে। সে রংপুর মহানগরীর মডার্ন এলাকার বারোআউলিয়া কওমি মাদ্রাসার ছাত্র। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগির পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে সোহাইবুর রহমানকে মাদ্রাসাটিতে ভর্তি করা হয়। গত শনিবার সকালে নির্ধারিত পড়া দিতে না পারার অভিযোগে শিক্ষক নাজমুল হুদা তাকে বেত দিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে শিশুটি ক্ষমা চেয়ে মারধর বন্ধ করার অনুরোধ করলেও তা উপেক্ষা করে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে তার পিঠ,হাত,পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মারধরের পর শিশুটিকে একটি কক্ষে সারাদিন আটকে রাখা হয়। পরে মাগরিবের নামাজের সময় কক্ষের দরজা খোলা দেখে সে সেখান থেকে বের হয়ে পালিয়ে যায়। বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাতে বদরগঞ্জের নিজ বাড়িতে পৌঁছায় সে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

শনিবার গভীর রাতে হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আঘাতের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। সকালে আঘাত করলেও রাত পর্যন্ত শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের দাগগুলো স্পষ্ট ছিল।

সোহাইবুর রহমান বলে, ‘পড়া দিতে না পারায় হুজুর আমাকে বেত দিয়ে মারতে থাকেন। আমি অনেক কাকুতি-মিনতি করলেও তিনি থামেননি। পরে আমাকে একটি রুমে আটকে রাখেন হুজুর। সুযোগ পেয়ে আমি পালিয়ে বাড়িতে চলে আসি। ওই হুজুর প্রায় সময় ছাত্রদের দিয়ে শরীর টিপে নেয়। হুজুর খুবই বদ মেজাজি-খারাপ।’

বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক শয়ন মিয়া বলেন, ‘শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরও ক্ষতচিহ্নগুলো স্পষ্ট ছিল। শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি সে মানসিকভাবেও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’ সোহাইবুরের বাবা নাজিমুল বলেন, মাদ্রাসার বড় হুজুর বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে অনুরোধ করছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বারোআউলিয়া কওমি মাদ্রাসার মোহতামিম (প্রধান) নাজমুল হক বলেন,  ‘ঘটনার বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিশুটির খোঁজ নিতে আমরা তার বাড়ি ও হাসপাতালে গিয়েছি। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুল হুদার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়