খরায় আমন ধানের জমি ফেটে চৌচির, মাঠে নেই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার দেখা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বৃষ্টির দেখা নেই। তীব্র খরায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের জমিতে দেখা দিয়েছে পানির সংকট। কোথাও কোথাও জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ফসল রক্ষায় কৃষকেরা বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিচ্ছেন। এর মধ্যেই মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত দেখা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কৃষকেরা।
গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের উত্তর খামার মোহনা চাল্লিয়ার পাড় এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ আমন ধানের জমিতে মাটি শুকিয়ে বড় বড় ফাটল ধরেছে। জমিতে সবুজ ধানের চারা থাকলেও প্রয়োজনীয় পানির অভাবে অনেক জায়গায় মাটি শক্ত ও শুকনো হয়ে পড়েছে। ফসল রক্ষায় নিজেদের উদ্যোগে শ্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছেন কৃষকেরা।
চাল্লিয়ার পাড় এলাকার কৃষক আবুল কালাম (৫০) নিজের জমিতে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিচ্ছিলেন। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে মাঠে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আমন ধানের জন্য এ সময় জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় জমির মাটি শুকিয়ে ফেটে গেছে। সময়মতো পানি না দিলে ধানের চারা দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি ফলনেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবুল কালাম বলেন, “বৃষ্টির আশায় বসে থাকলে ধানের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তাই বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছি। এতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। ডিজেল ও সেচের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধান চাষে আমাদের ব্যয়ও বাড়ছে।”
কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের তদারকি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মাঠে ধানের কী অবস্থা, আমরা নিজেরাই দেখছি। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার দেখা নেই। ধান শুকিয়ে যাচ্ছে, মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে—এ সময় কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে এসে পরামর্শ দিলে কৃষকেরা আরও উপকৃত হতেন।”
একই এলাকার কৃষক আলম মিয়া (৫৫) বলেন, আমন মৌসুমে সাধারণত বৃষ্টির পানির ওপর অনেকটা নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এবার বৃষ্টির ঘাটতির কারণে জমিতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েকদিন বৃষ্টি না হলে জমির মাটি আরও শুকিয়ে গিয়ে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, “জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ধান বাঁচাতে এখন সেচ দিতে হচ্ছে। সেচের খরচ বেশি হলেও ফসল রক্ষার জন্য পানি দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।”
কৃষকদের ভাষ্য, আমন ধান সাধারণত বর্ষাকালের পর্যাপ্ত বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। তবে বৃষ্টিপাত কমে গেলে জমিতে সেচের প্রয়োজন হয়। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিতে হলে কৃষকদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, দ্রুত বৃষ্টি না হলে আমন ধানের জমিতে পানির সংকট আরও বাড়তে পারে। এতে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেইন বলেন, আমন ধানের জমিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচের ব্যবস্থা করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টির ঘাটতি থাকলে জমির অবস্থা বুঝে সেচ দিতে হবে। বিশেষ করে ধানের বৃদ্ধি ও কুশি গজানোর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে উপস্থিতি না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষি কার্ডের জরিপের কাজে মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ব্যস্ত ছিলেন। এ কারণে তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনে যেতে পারেননি। তবে এখন থেকে তারা মাঠে গিয়ে আমন ধানের জমির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ জেসমিন আক্তার বলেন, “উপসহকারী কর্মকর্তারা একটা কাজের অজুহাতে আরেকটা কাজ বন্ধ রাখতে পারেন না। আমি বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।”