গঙ্গাচড়ায় শিক্ষার্থী নিপীড়নের অভিযোগ: তদন্তে নৈশপ্রহরীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সহকারী শিক্ষক রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্তে নতুন প্রশ্ন সামনে এসেছে। অভিযোগের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম নৈশপ্রহরী আবু সায়েমের দায়িত্ব পালন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে তার বিরোধের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ছালাপাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন তদন্ত করেছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।
তদন্তকালে অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য ও অভিযুক্ত শিক্ষক রিয়াজুল ইসলামের বক্তব্য পৃথকভাবে নেওয়া হয়। বক্তব্য গ্রহণের পর তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যাচাই করে।
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন তারাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাগমা সিলভিয়া খান। সদস্য হিসেবে ছিলেন গঙ্গাচড়া সহকারী শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন প্রধান ও জয়নব সুলতানা। তদন্ত শেষে কমিটির প্রধান বলেন, “সরেজমিন তদন্ত করেছি। পৃথকভাবে সবার কথা শুনেছি। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”
এদিকে তদন্তের মধ্যে নৈশপ্রহরী আবু সায়েমের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি সূত্রের দাবি, দায়িত্ব পালনে অনিয়ম নিয়ে সহকারী শিক্ষক রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে আবু সায়েমের একাধিকবার বিরোধ হয়। এ বিরোধের জেরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পেছনে কোনো উদ্দেশ্য বা পূর্ববিরোধ কাজ করেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবু সায়েম। তিনি বলেন, “মাঝেমধ্যে আমি অসুস্থ হলে আমার ছেলে স্কুলে আসে। অন্যান্য অভিযোগও সঠিক নয়। আমি মাঝেমধ্যে বাইরে গিয়ে বাজারে যাই। এলাকার লোকজন সেটি দেখে বিভিন্ন কথা বলেন। তবে আমাকে স্কুলের কাজেই বাইরে যেতে হয়।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থী নিপীড়নের মতো গুরুতর অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালনের বিষয় এবং অভিযোগের পেছনে কোনো পূর্ববিরোধ ছিল কি না—সবকিছুই নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।