৩ বৈশাখ, ১৪৩১ - ১৬ এপ্রিল, ২০২৪ - 16 April, 2024
amader protidin

বোরো ধানে দেখা দিয়েছে পাতা ব্লাস্ট ও পোকার আক্রমন:দিশেহারা কৃষক

আমাদের প্রতিদিন
2 weeks ago
73


মোঃ হাবিবুল হাসান হাবিব,ডিমলা (নীলফামারী):

নীলফামারীর ডিমলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের চারা রোপন করেছে উপজেলার দশটি ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষকরা। হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে একমুঠো ভাতের আশায় ও জীবনের সুখ সাচ্ছন্দ উপভোগ করার জন্য ধার-দেনা করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষি জমিতে মনের আনন্দে বোরো ধান রোপন করেছেন কৃষকেরা । রোপনকৃত বোরো ধানগাছ গুলো এখন যৌবনে ভরপুর। কিছুদিনের মধ্যেই ধান গাছের ডগার বুক চিরে বের হবে সবুজ কচি ধানের শীষ। রোপনকৃত জমিতে ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকেরা । ঠিক সেই সময় দেখা দিয়েছে পাতা  ব্লাস্ট , গিট  ব্লাস্ট ও নেক  ব্লাস্টসহ বিভিন্ন ধরনের পোকার আক্রমন। ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকেরা হতাশ ও দিশেহারা। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকেরা বালাইনাশক ঔষুধ ব্যবহার করলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না। নুতন নুতুন রোগ সম্পর্কে কৃষকেদের ধারনাও অজানা। এতে বোরো ধান চাষে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

উপজেলার মধ্যম সুন্দর খাতা গ্রামের আব্দুল হামিদের পুত্র কৃষক পাষান আলী জানান, আমি ছয় বিঘা জমিতে হাইব্রীড জাতের বোরো ধান রোপন করেছি। চারা জমিতে রোপনের পর বর্তমান পর্যন্ত ২-৩ বার বালাইনাশক ঔষুধ স্প্রে করেও ধান ক্ষেতে কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে কিছু যায়গায় ধানের চারাগুলো হলুদ বর্ণ হয়ে ধানের গাছ গুলো বিবর্ণ হয়ে খাটো হয়ে পাতা মরে যাচ্ছে। ডগডগে ধানগাছ গুলো আগুনে পোড়ার মতো দিনদিন শুকিয়ে খড়ে পরিনত হচ্ছে। এই খড় কেটে গৃহপালিত পশুকে খাওয়ানো উচিত হবে না জানান তিনি। এখন যে স্বপ্ন ও বুক ভরা আশা নিয়ে বোরো ধান চাষ করেছি তা এখন গুড়ে বালী হওয়ার উপক্রম।

একই গ্রামের কৃষক সহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিস হতে কোন অফিসার এদিকে আসেনা নামও জানি না।  তার রোপনকৃত বোরো ধানের জমিতে ঔষুধ ব্যবহারে কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান এ পর্যন্ত দুই বার ঔষুধ ব্যবহার করেছি পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছি না।

কৃষক মহিকুল ইসলাম জানান, চারা রোপনের পর ধান গাছগুলো ভালোই ছিল কয়েকবার ঔষুধ ব্যবহার করেছি কিন্তু হঠাৎ করে আমার ধানের গাছগুলো খাটো হয়ে পাতা খড়ের মত হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করতে  প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ।  এভাবে পোকার আক্রমন দেখা দিলে ফসল ঘরে তোলার আগেই আমাদের স্বপ্ন গুলো বিলীন হবে।

বালাপাড়া ইউনিয়নের ৮নং ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান মুঠো ফোনে বলেন, সরেজমিনে গিয়ে যার যার এরকম ক্ষতি হয়েছে টিট্রমেন্ট দিব, এ পর্যন্ত কোন কৃষক আমাকে জানায় নি। আপনার মাধ্যমে জানলাম।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ মোঃ সেকেন্দার আলী ও কৃষি সম্প্রসারন অফিসার মোঃ খোরশেদ আলম এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন ধরেন নি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নীলফামারীর উপপরিচালক ড.এস.এম. আবু বকর সাইফুল ইসলাম সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস হতে মাঠ পর্যায়ে বোরো ধান চাষে কিভাবে ভাল ফলন পাওয়া যায় সে বিষয়ে পরিচর্যা, রোগ প্রতিকার সম্পর্কে স্থানীয় কৃষকদের পরামর্শ ও  লিফলেট বিতরন করা হয়েছে।   

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়