৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ - ২১ এপ্রিল, ২০২৬ - 21 April, 2026

পাট চাষে স্বচ্ছলতার স্বপ্ন দেখছেন গঙ্গাচড়ার চরাঞ্চলের কৃষকরা

10 months ago
245


নির্মল রায়, গঙ্গাচড়া:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা চরাঞ্চলের পলি ও দোঁআশ মাটিতে ব্যাপক পাট চাষ হয়েছে।

অনুকূল আবহাওয়া থাকায় পাটের ভালো ফলন হবে বলে আশা পাট চাষীদের। তিস্তা বিধৌত উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের ইচলী গ্রামের ভুট্টু মিয়া (৫০) জানান, চৈত্রের শেষ ভাগে পাটের মৌসুম শুরু হয়। বৈশাখে পুরোদমে এর আবাদ হয়। পাট কাটা হয় আষাঢ় ও শ্রাবণে। এ সময় বৃষ্টি বেশি হলে সহজে জাগ দিতে পারেন চাষিরা। এতে ভালো পাট পাওয়া যায়। তবে কোনো কারণে পানির অভাব দেখা দিলে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শংকরদহ এলাকার পাট চাষি মজিবর (৬০) জানান, চলতি বছর এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। তবে দাম নিয়ে কিছুটা চিন্তিত আছি। সরকার চাষিদের কাছ থেকে ন্যায্য দামে পাট কিনবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চল্লিশশাল এলাকার দছির আলী (৪৮) জানান, দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। পাট গাছের বয়স দেড় মাস পূর্ণ হয়েছে। গাছ ও পাতা অনেক ভালো আছে। আশাকরি  ভালো ফলন পাব।

একই ইউনিয়নের বাগের হাট এলাকার মনোয়ার (৩৫) জানায়, গত বছর পাটের চাষ ছিল না। কিন্তু বাজারে ভালো দাম ছিল। তাই এবার আড়াই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি।

গত বছর কৃষকরা প্রতি মণ পাটে ৩ থেকে প্রায় ৪ হাজার টাকা দাম পেয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, প্রতি বিঘায় বীজ বপন থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘায় প্রায় ১০ মণ পাটের ফলন পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম বলেন, এবছর দেশী পাট ৩৪০ হেক্টর,

তোষা ২৩৯০ হেক্টর মিলে মোট ২৭৩০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে।

তিনি আরো জানান, পাট চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, বীজ বিতরণ ও সার বিনা মূল্যে দেয়া হয়েছে। চলতি বছর পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৪৯ বেল।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth